মৃত্যুর পরেও ছেলেকে বাচিয়ে রাখলেন তার অভিভাবক, গুজরাটের এই অভিনব প্রয়াসে সকলেই মুগ্ধ

বাবা-মায়ের কাছে সন্তানের চলে যাওয়ার থেকে বড় দুঃখ আর কিছু হতে পারে না। কিন্তু নিয়তির কাছে আমরা সকলেই খুবই অসহায়। এমন অনেক বাবা-মা রয়েছেন যাদের চোখের সামনে চলে যায় তাদের সন্তানরা। হ্যাঁ এমন একটি আড়াই বছরের শিশুর নাম যশ ওঝা। খেলতে খেলতে প্রতিবেশীর বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে যায় সে। মাথায় প্রচন্ড পরিমানে আঘাত লাগে। রক্ত জমাট বেঁধে গিয়ে ব্রেন ডেথ হয় তার। এক মুহূর্তে সব স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় তার বাবা-মায়ের। (A Gujarati boy is alive within us ever after his death)

শিশুটির বাবা যিনি পেশায় সাংবাদিক, সঞ্জীব ওঝার ঠিক করেন যে একমাত্র ছেলের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ দান করে দেবেন। তিনি ডোনেট লাইভ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।তাদের মাধ্যমে তিনি দান করে দেন ছেলের হৃদপিণ্ড, ফুসফুস, দুটি কিডনি, যকৃত এবং দুটি চোখ।

তার হৃৎপিণ্ডটি পেয়েছে রাশিয়ার একজন 4 বছরের শিশু। ইউক্রেনের একটি ছেলে পায় ফুসফুস। আমেদাবাদের 14 এবং 17 বছরের দুটি কিশোরী পেয়েছে কিডনি দুটি। ভাবনগর 12 বছরের শিশু পেয়েছে লিভার। আর চোখের কর্নিয়া দুটি দান করা হয়েছে লোক দৃষ্টি চক্ষু ব্যাংকে।

এই অভিনব ভাবে অকালমৃত্যু পুত্রকে তারা বাচিয়ে রাখলেন এতগুলি ছেলেমেয়েদের মধ্যে দিয়ে। ছেলের পাঁচটি অঙ্গ পাঁচটি শিশুকে দিয়েছে নতুন জীবন। তাদের মুখের হাসিতে থেকে যাবে ছোট্ট আড়াই বছরের এই শিশুর স্মৃতি।

এরকমই আরো একটি ঘটনা ঘটেছে রাজস্থানে। সেখানে 15 বছরের একটি কিশোরের ব্রেন ডেথ হয়ে মৃত্যু হয়েছিল। তার মৃত্যুর পর তার পরিবারের লোকজন তার হৃৎপিণ্ড, যকৃৎ এবং কিডনি দান করে দিয়েছেন। তার ফলে প্রাণ ফিরে পেয়েছে আরও চারজন। এইভাবে যদি ভাবনা চিন্তা করতে পারে সকল অভিভাবক,তাহলে আরো কিছু ছেলে মেয়েরা অকাল মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়ে যাবে।

A Gujarati boy is alive within us ever after his death
মৃত্যুর পরেও ছেলেকে বাচিয়ে রাখলেন তার অভিভাবক, গুজরাটের এই অভিনব প্রয়াসে সকলেই মুগ্ধ