ট্রল খাওয়ার ভয়ে কমেন্ট বন্ধ করে দিলেন আলিয়া ভাট

আগস্টের ৬ তারিখে বৃহস্পতিবার আলিয়া ভাটের সড়ক টু (Sadak 2)) সিনেমার পোস্টার লঞ্চ করা হয়েছে। পোস্টার লোকজনের সামনে আসার পরপরই চূড়ান্ত রকমে হাসি তামাশা করা হয় আলিয়া ভাট (Alia Bhatt) ও আদিত্য রায় কাপুর (Aditya Roy Kapur) কে নিয়ে। সোশ্যাল মিডিয়াতে তাদেরকে ঘিরে প্রচন্ড পরিমানে ট্রোল করা হয়।

প্রসঙ্গত, এই আগস্টেরই ২৮ তারিখে সড়ক টু সিনেমা রিলিজ করা হবে (Sadak 2 release date)। আর এই সিনেমাটিতে পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন আলিয়া ভাটের বাবা মহেশ ভাট (Mahesh Bhatt)। তো সেকেন্ড পোস্টারটি রিলিজ করা হয় গত বৃহস্পতিবার। আর নেটিজেনদের সামনে আসার পরপরই আলিয়া ভাট এবং আদিত্য কে নিয়ে চূড়ান্ত লেভেলে ট্রল করা হতে থাকে। জানা গিয়েছে অনলাইন প্লাটফর্ম হটস্টারে এই সিনেমাটি কে রিলিজ করা হবে।

তবে নেট দুনিয়ার লোকজন আলিয়া ভাটকে সুবিধাবাদী ও স্টার কিডস বলে উস্কাতে শুরু করেন। তাদেরকে নিয়ে প্রচন্ড ঠাট্টা করা হয়। ট্যুইটারে #বয়কট বলিউড ফিলমস #বয়কট সড়ক ২ #আলিয়া ভাট এরকম বিভিন্ন প্রকার হেয়ার স্টাইল প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। আর এই মুহূর্ত টাই নাকি সড়ক ২ কে বয়কট করার প্রকৃত মুহূর্ত বলে বলতে থাকেন প্রত্যেকে। তাছাড়া সবাইকে এই প্রতিবাদে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

তাছাড়া লোকজনেরা মহেশ ভাটের উদ্দেশ্যে বলেন,” কর্মফল কখনও পিছু ছাড়ে না। নিজের কর্মের ফল নিজেকেই ভোগ করতে হবে।”

এরকম ব্যাপকহারে ট্রল খাওয়ার পর আলিয়া ভাট হতাশ হয়ে কমেন্টস সেকশন বন্ধ করে দেন (alia bhatt turns off comment due to the fear of trolling)। আর পূর্বের সমস্ত কমেন্টগুলো ডিলিট করে দেন। এই কথাটি অবশ্য ট্যুইটারের ইউজারই বলেছেন।

প্রসঙ্গত, সুশান্ত সিং মারা যাবার পরের দিন হতেই স্বজনপোষণ বা নেপোটিজম ব্যাপারটিতে সামাজিক গণমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠছে। তাছাড়া মুম্বাই পুলিশের তরফ থেকে মহেশ ভাটকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল। তার সমস্ত কথাবার্তা রেকর্ড করে রাখা হয়েছে। তাছাড়া এই দিন নাকি সান্তাক্রুজ পুলিশ স্টেশনে মহেশ ভাটের কাছ থেকে বন্ধু পাওয়া যায়। আর এই ভিডিওটি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই পুনরায় বিতর্কে সূত্রপাত শুরু হয়।

তাছাড়া স্বজনপোষণ বা নেপোটিজম ব্যাপারটির আরম্ভ থেকেই নিশানা করা হয়েছিল আলিয়ার দিকে। এর যুক্তিযুক্ত একটি কারণ দেখানো হয়েছে। তিনি নাকি একবার কফি উইথ করণ নামক রিয়েলিটি শোতে এসে বলেছিলেন,” কে এই সুশান্ত? আমি তো তার নাম শুনিনি?” তাছাড়াও জনসাধারণ করান জহার, সালমান খান প্রভৃতি স্টার দের বিরুদ্ধে আঙ্গুল তোলেন। সুশান্তের আত্মহত্যার ব্যাপারে নাকি মহেশ ভাট, করণ জোহার ইন্ধন জুগিয়েছেন এরকম অভিযোগ করা হচ্ছিল।

অপরদিকে, রিয়া চক্রবর্তী এবং মহেশ ভাটের মধ্যেকার রিলেশনশিপ ((Relationship between Rhea Chakraborty and Mahesh Bhatt)) নিয়েও গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। একটা সময়ে সুশান্ত এবং রিয়া (Sushant Singh Rajput With Rhea) রিলেশনশিপ আবদ্ধ ছিলেন। আর সেই সময়ই নাকি মহেশ রিয়াকে সতর্ক করে দেন। তার কথা অনুযায়ী, সুশান্ত এর ভেতরে ভেতরে নাকি আত্মহত্যা করার একটা ব্যাপার রয়েছে। আর এখন রিয়ার কলের লিস্ট গুলো চেক করার পর দেখা গেল লাস্ট ৬ মাসের মধ্যে মহেশ ভাট এবং রিয়া ৩০০ বারের ও বেশি মোবাইলে কথা বলেছেন। এরফলে সন্দেহের তীর আরও ঘনীভূত হয়।

সুশান্তের অকাল মৃত্যুর পরপরই বলিউডের একটা অন্ধকারময় জগৎ সবাই দেখতে পায়। স্টার কীডদের বয়কট করার জন্য প্রতিবাদের ঝড় ওঠে সোশ্যাল মিডিয়াতে। আর এতে সবথেকে বেশী নিশানা করা হয় আলিয়া ভাট কে। সুশান্ত এর মৃত্যুর প্রায় দুমাস হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখনো জনসাধারণ বলিউডের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে রয়েছেন।