সম্মান হারানোর ভয়ে কিশোরীকে খুন করলো মাসি এবং মেসো

Delhi : দিনের পর দিন ধরে ক্রমশ ধর্ষণের পরিমান বেড়ে চলেছে, সেটা রাস্তায় হোক কিংবা নিজের আত্মীয়র বাড়িতে। এরকমই একটি ঘটনা ঘটল উত্তর পূর্ব দিল্লির নন্দনগরী এলাকায়। ধর্ষন করার চেষ্টা করলো শ্যালিকার মেয়েকে। (Delhi Crime News : Aunt and uncle kills the girl for fear of losing respect in Nandanagari , North Eastern Delhi, India. Uncle tries to rape the girl)

পুলিশ সূত্রে খবর পাওয়া যায়, দিল্লিতে পড়াশুনার জন্য কিশোরী তার মাসির বাড়িতে থাকত। মাসির বাড়িতে তার মেসো এবং মাসি দুজনেই থাকতো। তাদের কাছে থেকে কিশোরী পড়াশোনা করত।

পুলিশ সূত্রে খবর পাওয়া যায় যে কিশোরীর মাসি ভিক্ষা করে দিন চালায়। কুড়ি অক্টোবর থেকে কিশোরীটির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না এবং অবশেষে সোমবার, ওই দম্পতির বিছানার তলার বাক্স থেকে পাওয়া যায় সেই কিশোরীটির পচা মৃতদেহ।

জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য কিশোরীর মাসিকে যখন ডাকা হয়, তখন জানায় যে ২৩শে অক্টোবরে যখন তিনি ভিক্ষা করে বাড়ি ফেরে তখন তিনি বাড়িতে তার বোনঝিকে দেখতে পাননা। তিনি পুলিশকে আরও বলেন যে, তার স্বামী কিশোরীটিকে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের একটি অনাথ আশ্রমে রেখে এসেছে।

কিন্তু যখন পুলিশ অনাথ আশ্রমে তদন্ত চালায় তখন দেখা যায় যে ঐ নামের মেয়ে ওখানে নেই। আস্তে আস্তে পুলিশের মনে সন্দেহ বাড়তে থাকে এবং এরপরেই তদন্ত আরও জোরালো হয়।

ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ বেদপ্রকাশ সূর্য বলেন যে, অনাথ আশ্রমে খোঁজখবর নেয়ার পর মেয়েটিকে যখন পাওয়া যায় না তখনই তাদের মনে সন্দেহ এসেছিল।

এরপর এই সন্দেহের বশে বিহারের কাছে একটি বাস স্ট্যান্ড থেকে কিশোরীর মেসো ভকিল পোদ্দারকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ট্রানজিট রিমান্ড দিল্লি, সেখানে আদালতে তাকে তোলা হয়। (Uncle Vokil Podder is arrested from a bus stand in Bihar)

জিজ্ঞাসাবাদ করার পর ভকিল পুলিশদের জানিয়েছিল যে কিশোরীটি তার শ্যালিকার মেয়ে। অনেক দিন আগে থেকেই সেই মেয়েটির সঙ্গে সে শারীরিক সম্পর্ক করতে চেয়েছিল, কিন্তু মেয়েটি রাজি ছিল না। (Mesho tar shalir meye ke dhorshon er chesta kore)

এই সমস্ত ঘটনা মাসি জানতে পারলে কিশোরীর মেসোর সঙ্গে অনেক ঝগড়া শুরু হয়েছিল, এবং মেসো মেয়েটিকে বাড়িতে রাখতে চেয়েছিল, কিন্তু তার স্ত্রী সেটা মেনে নেয়নি। মেয়েটি চেয়েছিল যে তার গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাবে, কিন্তু দিল্লিতে পড়াশোনা জন্য সে আটকে যাচ্ছিল। অবশেষে মেয়েটিকে মেরে ফেলবে বলে সিদ্ধান্ত নেয় তার মাসি।

এরপরে ২৩শে অক্টোবর তার মাসি যখন বাড়ির বাইরে ছিল তখন একটি লোহার রড দিয়ে ভকিল মেয়েটির মাথায় আঘাত করে এবং সেখানে সে মারা যায়। এরপর তাকে কম্বল দিয়ে মুড়ে তাদের শোবার ঘরের বিছানার তলে একটি বাক্স করে লুকিয়ে রেখেছিল এবং লোহার রডটিকে পরিষ্কার করে রেখে দিয়েছিল।

ঠিক করেছিল দুজনে যে , সময় সুযোগ বুঝে অন্য জায়গায় ফেলে দেবে দেহটাকে কিন্তু সেটার সুযোগ আর হয়নি।

Aunt and uncle kills the girl for fear of losing respect
সম্মান হারানোর ভয়ে কিশোরীকে খুন করলো মাসি এবং মেসো (প্রতীকী ছবি)