বাজিতে নয়, বাজনার সুরেই মাতলো এইবারের কালীপুজো

করোনা পরিস্থিতির কারণে বাজি ফাটানোর বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। সেই নির্দেশ মেনে কোন কোন জায়গায় বাজি ফাটানো বন্ধ হলেও কিছু কিছু জায়গায় দেখা গেছে বাজি ফাটানোর তান্ডব। তবে বলা যায় যে, প্রত্যেক বারের তুলনায় এবারের বাজি ফাটানো সংখ্যা অনেকাংশে কমে গিয়েছে। বাজি ফাটানোর দৃশ্য দেখা যায় দীপাবলি দিন এবং তার সঙ্গে যেদিন বিসর্জন হয় মায়ের ঠিক সেইদিন, তবে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বাজি ফাটানো কিছুটা হলেও রাস টানা গেছে। (Kali Puja 2020 News : Baji firecracker noy, bajnar sur e matlo Kali Puja 2020)

কালী পূজার সময় কলকাতার এনএসসি বোস রোড, বাবুঘাট এই সমস্ত জায়গায় ভাসান এর জন্য ভীষণ ভিড় হয় । দুই রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন দর্শকগণ এবং সেখান থেকে সকল জায়গায় ঠাকুর গুলো বিসর্জনের জন্য আসে। ওই জায়গা গুলো বিসর্জনের জন্য ভীষণই জমজমাট থাকে।

কিন্তু এই বছর সেরকম কিছুই হলো না। কালী পূজার বিসর্জন ছিল সোমবার। পুলিশ এবং পৌরসভার কর্মীরা রক্ষণাবেক্ষণে ছিল সেই সমস্ত জায়গায়। কিছু কিছু জায়গাতে দেখা গেছে দেখা গেছে, গাড়ি করে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য আনা হয়েছিল সেই সব গাড়িতে প্রচুর পরিমানের লোক ছিল। অনেক জায়গা থেকে বাজি ফাটানোর শব্দ শোনা গিয়েছিল।

উত্তর কলকাতার একটি ক্লাবের কিছু সদস্য তাদের মন্ডপের ঠাকুর নিয়ে এসেছিল বিসর্জন দিতে নিমতলা ঘাটে। সেই ক্লাবের একজন সদস্য বলেন যে, বাজি ফাটানো অত হয়নি সেই জন্য একটু-আধটু গানতো বাজাতেই হবে। তার এই কথা শোনার পর পিছনের দিকে ছিল আরেকটি দল যারা ঠাকুর বিসর্জনের জন্য এসেছিল তারাও জোরে জোরে গান বাজাতে থাকে।

ভাসান হওয়ার হওয়ার সময় কমবেশি নিয়ে শোরগোল ছিল এবং এই বছর সাউন্ড বক্স কতক্ষন চলবে তার নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে কিছু বলা ছিল না। তবে পুলিশ প্রশাসন কালীপুজোর সম্পর্কে এ বছরে যা দেখতে পেয়েছেন সেটি হল, অন্যান্য কিছু হয়ে থাকলেও বাজি পোড়ানো অনেক অংশে কমেছে, এটাই তাদের কাছে বিশাল বড় সাফলতা বলে মনে করছেন তারা।

কদমতলা ঘাটে কিছু জন মহিলা বাদ্যযন্ত্র নিয়ে তাদের ঠাকুর বিসর্জন দিতে এসেছিলেন, কিন্তু যেহেতু বাদ্যযন্ত্র ছিল সে তো সেই মহিলাদের ঘাটে যেতে দেওয়া হয়নি ; চারজন মিলে সেই প্রতিমাকে গঙ্গায় বিসর্জন দেন। অনেক জায়গাতে ঠাকুর বিসর্জনের সময় দূরত্ব মানা হয়নি।

আগামীদিনের উৎসব ছট এবং জগদ্ধাত্রী পুজো আসছে, সুতরাং করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই এই ধরনের উৎসব গুলোকে পালন করা সত্যিই স্মরণীয় বিষয় হয়ে দাঁড়াবে সকলের কাছে।

This time no FIrecrackers but with tune in Diwali Kali puja
বাজিতে নয়, বাজনার সুরেই মাতলো এইবারের কালীপুজো