রোগ প্রতিরোধে ভেষজ চা খাচ্ছেন? জেনে নিন অতিরিক্ত ব্যবহারে কি হতে পারে।

রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে আমরা অনেকেই নানারকম টোটকা ব্যবহার করে থাকি। তবে সকলের শারীরিক অবস্থা একই রকম নয়। তাই সবার জন্য একই রকম টোটকা সমান হয় না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে (There are benefits and side effects of drinking herbal tea)। অনেকেই ভেষজ চা খেয়ে থাকেন, যেমন: আদা, গোলমরিচ, লবঙ্গ, মধু, তুলসীপাতা, পাতিলেবু, দারচিনি ইত্যাদির সংমিশ্রণে চা তৈরি করে পান করেন।

বলা হয় এই ভেষজ চা খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, এই চা অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে হতে পারে শরীরের ক্ষতি। যারা সর্দি-কাশিতে ভোগেন তাদের পক্ষে এটি উপকারী। কিন্তু যাদের পিত্ত বা বাতের সমস্যা রয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে উষ্ণ পানীয় গ্রহণ করা কোনোভাবেই উচিত নয়। ভেষজ চা তাদের শরীরে ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

দিনে কতবার ভেষজ চা পান করবেন। সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যাদের বাতের সমস্যা রয়েছে তারা একদিনে এই চা দুবার খেতে পারেন। এর বেশি খাওয়া উচিত নয়। তবে যাদের বাতের সমস্যা রয়েছে, তারা এই ভেষজ চায়ের সঙ্গে সামান্য ঘি মিশিয়ে খেতে পারেন। যাদের পিত্তসংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে। তাদের এই চা দিনে একবারের বেশি কখনই খাওয়া উচিত নয়।

এই ভেষজ চা সন্ধ্যেবেলা খাওয়াই উচিত। সকাল বেলা খালি পেটে খাওয়া উচিত নয়। যাদের সর্দি কাশির সমস্যা রয়েছে। ভাইরাল ফিভারে আক্রান্ত হয়েছেন যারা, তাদের শরীর সুস্থ হ‌ওয়ার ক্ষেত্রে বেশ ভালো কাজ দেয় ভেষজ চা। তবে বেশি পরিমাণে এই চা গ্রহণ করায় শরীরের ক্ষতি হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গিয়ে যদি ভেষজ চা বেশি খাওয়া হয়। তাহলে হিতে বিপরীত হয়ে অন্য ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। একজন মানুষের বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং আবহাওয়া বিচার করেই ভেষজ চা গ্রহণ করা উচিত। সবার ক্ষেত্রেই ভেষজ চা একই রকম উপকার দেয় না। তাই পরামর্শ নিয়েই ভেষজ চা খাওয়া উচিত ১০০ মিলিলিটার জলে ভেষজ সব উপকরণ দিয়ে ফুটিয়ে সেই জল অর্ধেক করে তবে গ্রহণ করা যেতে পারে। ভেষজ চা অবশ্যই খাবেন, কিন্তু কিভাবে খাবেন তা ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে নিন।