রং কালো হওয়ায় অপমানিত হতে হয়েছিলো ত্রিনয়নীর শ্রুতিকে – Shruti Das in Trinayani Serial

কাটোয়া বাসী ত্রিনয়নীর শ্রুতি। কাটোয়ার মত একটি অঞ্চল থেকে সরাসরি কলকাতায় এসেছিল নিজের অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে, সেখানে সে গ্রাজুয়েশন পাশ করে এবং তারপর আসে মডেলিং জগতে, মডেলিং এর সাথে সাথে অসাধারণ নাচও করে। একসময় পড়াশুনার ফাঁকে ফাঁকে এসে অডিশন দিতে যেত এবং হঠাৎ করেই একসময় তার কাছে এসে যায় তার স্বপ্ন পূরণের একটা সুযোগ পেয়ে যায় ছোটপর্দাতেই অভিনয় করার। (Bangla Serial News : Director slams Shruti Das from Trinayani and Desher Maati bangla serial as her skin is black)

তারপরেই যতদিন যায়, সে তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিকের মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পায়। সরাসরি সুযোগ পেয়ে যায় জি বাংলা তে এবং সেখানে ত্রিনয়নী ধারা এর প্রধান চরিত্র হিসাবে তাকে সুযোগ দেওয়া হয়। ধারাবাহিকটি দর্শকদের কাছে একদম প্রিয় হয়ে যায় এবং সাথে তার অভিনয়কে সকলেই প্রশংসা করে। এর পরপরই কাছে সুযোগ আসে স্টার জলসায় একটি ধারাবাহিকে অভিনয় করার। (Shruti Das on Zee Bangla Trinayani serial)

https://www.instagram.com/p/CKS_pRwMCwZ/

সম্প্রতি স্টার জলসায় দেশের মাটি ধারাবাহিকটিতে সে অভিনয় করছে নোয়ার চরিত্রটি। এই সমাজে, আধুনিক সমাজে আমাদের সমাজটা পরিণত হয়েছে তাও যেন অনেক জায়গাতেই অনেক মানুষ আছে যারা প্রতিভাকে দমিয়ে রাখতে চায়। তবে এটা জানেন তারা, কোন প্রতিভা ই দমে থাকতে চায় না, একদিন না একদিন তার নিজের দক্ষতায় উপরে উঠে যায়। (Shruti Das aka Noa on Star Jalsha Desher Maati Bangla Serial)

এবং সেটাই হয়েছে, অনেকেই শ্রুতিকে কালো, বলে মন্তব্য করতেন এমনকি তার কালো রংয়ের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে বিদ্রুপ করা হয়েছিল। সমস্ত কিছুতেই এবার অতিক্রম করে গেছে সে, এখন কোন কিছুতেই পাত্তা দেয় না। স্টার জলসার নতুন সিরিয়াল দেশের মাটিতে নোয়া একজন শিক্ষিত গ্রামের মেয়ে। এই সিরিয়ালটিতে দেখানো হয়েছে যৌথ পরিবারের গল্প। আপাতত যে মেয়েটিকে নিয়ে কালো রং বলে মন্তব্য করা হতো সেই মেয়েই আজকের বাঙালির ঘরের এক প্রিয় অভিনেত্রী।

নতুন ধারাবাহিকটিতে নোয়ার বিপরীতে রয়েছে দিব্য জ্যোতি এবং সেই বিষয়ে তিনি একটি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন তার পরেই তাকে শিকার হয় নানারকম কুৎসিত মন্তব্যের । কেউ কেউ কমেন্ট করে লেখেন পেত্নী এবং কুৎসিত এবং কেউ লেখেন,শুধুমাত্র কাজের লোকের চরিত্র দিলেই একে সব থেকে বেশি মানাবে। এরকম একটি আধুনিক সমাজে সে এখনো প্রতিভাকে না দেখে গায়ের রং কে নিয়ে চর্চা করা হয় সেটা ভাবলেও এই সমাজে দাঁড়িয়ে প্রত্যেকটা শিক্ষিত মানুষের লজ্জা বোধ হওয়া উচিত।

শ্রুতি জানায় যে এক সময় সে প্রেম করতেন এবং সেই সময় তার প্রেমিক তাকে বলেছিল গায়ে কাঁচা হলুদ মাখলে ফর্সা হওয়ার জন্য এবং তার পরই তাদের মধ্যে ব্রেকআপ হয়ে গিয়েছিল। পরে যখন ইন্ডাস্ট্রিতে প্রথম প্রবেশ করে তখন তাকে বলা হয়েছিল, হিরোইন ম্যাটারিয়াল নয় কারণ তার গায়ের রং কালো। আপাতত সমস্ত বাধা অতিক্রম করে সে অভিনয় জগতে তার একটি ব্যক্তিত্ব স্থাপন করতে পেরেছে এবং অন্যদিকে নিজের ভালোবাসার মানুষটিকে খুঁজে পেয়েছে শ্রুতি এখন স্বর্ণেন্দু সমাদ্দারের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন তিনি