জামিনের আবেদন বাতিল! ১৪ বছরের জেল হতে পারে রিয়া চক্রবর্তীর

প্রিয় পাঠকেরা, প্রথম দিক থেকেই রিয়া চক্রবর্তীর দিকে সবার সন্দেহের তীর ছিল। কারণ প্রত্যেকে মতামত দিচ্ছিল যে, সুশান্তের মৃত্যুতে রিয়া চক্রবর্তী প্ররোচনা দিয়েছে। আর এনসিবির ক্রমাগত জিজ্ঞাসাবাদের ফলে ড্রাগের চার্জ এর ভিত্তিতে অভিনেত্রীকে গ্রেফতার করা হলো। আর তাকে 14 দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। আর এই নির্দেশের আগে তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে ভিডিও কনফারেন্স করানো হয়। উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট তার জামিনের আবেদন বাতিল করে দিয়েছে।

বন্ধুরা, এই মুহূর্তে রিয়া চক্রবর্তীর বয়স 28 বছর। আর ধারণা করা হচ্ছে যে তিনি দায়রা আদালতে জামিনের আবেদন করতে পারবেন। গতরাত্রে তিনি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার অফিসে কাটিয়েছিলেন (Now, Rhea Chakraborty turns 28 years. Last night, she spends her night in NCB office.)।

তাকে বায়কুল্লা জেলে নিয়ে যাওয়ার কথা হয়েছে (She will be kept in Byculla Jail.)। জানা গিয়েছে ওই জেল শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য। আর এখন সেখানে অনেক হাইপ্রোফাইল কয়েদিদের রাখা রয়েছে। আর তাদের মধ্যে রয়েছেন শীনা বোরা খুনের অভিযুক্ত ইন্দ্রানী মুখার্জি এবং অ্যাক্টিভিস্ট সুধা ভরদ্বাজ যাকে কোরগাওন-ভীম করেছে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ।

জানা গিয়েছে যে, রিয়া চক্রবর্তী তার বয়ফ্রেন্ডের জন্য ড্রাগ এনে দিতেন (Rhea Chakraborty arranges drugs for her boyfriend Sushant Singh Rajput)। আর এর ফলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত জুন মাসের 14 তারিখে এই বিখ্যাত বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত অকাল মৃত্যু বরণ করেন। তবে কোর্টের কাগজে তিনি ড্রাগ ইউজ করেছেন কিনা তার কোনো উল্লেখ নেই। তার বিরুদ্ধে যে চার্জ আনা হয়েছে তাতে তার দশ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।

এই মুহূর্তে রিয়া চক্রবর্তী এবং তার ভাই সৌভিক চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ড্রাগ সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে। জানা গিয়েছে তারা সুশান্ত সিং রাজপুতের কর্মচারী স্যামুয়েল মিরান্ডা এবং দীপেশ সাওয়ান্তের থেকে এগুলো সংগ্রহ করতেন। আর ওই কর্মচারী দুজনের নাকি ড্রাগ ডিলারদের সঙ্গে যোগসুত্র ছিল।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেল, এনসিবি তিনদিন ধরে রিয়া চক্রবর্তী কে জিজ্ঞাসাবাদ করে চলেছে। কারণ তারা ড্রাগের সঙ্গে সুশান্তের মৃত্যুর কতটা যোগসুত্র রয়েছে তা উদঘাটন করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে পড়ে লেগেছিল। কোর্টের ডকুমেন্টে রিয়া চক্রবর্তী কে ড্রাগ সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য যে ড্রাগ সরবরাহকারীদের সঙ্গে যুক্ত এবং তিনি প্রত্যেকটি ড্রাগের পেমেন্ট সম্পর্কে অবগত ছিলেন বলে নথিভূক্ত হয়েছে।

এন্টি ড্রাগ এজেন্সির তরফ থেকে জানানো হলো,”এই ব্যাপারটা পরিস্কার যে রিয়া চক্রবর্তী সুশান্ত সিং এর গ্রহণ করা ড্রাগ সরবরাহ করে দিতেন। অপরদিকে স্যামুয়েল মিরান্ডা এবং দিপেশ সাওয়ান্ত দুজনেই ড্রাগ সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আর এই ড্রাগের দাম হয়তো মেটাতেন সুশান্ত সিং রাজপুত এবং রিয়া চক্রবর্তী দুজনেই।”

কোর্টের নথিতে একথাও লেখা হলো যে, রিয়া চক্রবর্তী সুশান্তের জন্য আনা ড্রাগের পেমেন্টের হিসেব-নিকেশ করতেন। এজেন্সি আরোও জানালো যে, ড্রাগের ডেলিভারি গুলো সুশান্তের সহকারীরা রিসিভ করতো। আর ড্রাগের দাম এবং কোন ড্রাগটি নেওয়া হবে তা রিয়া চক্রবর্তী কনফার্ম করে দিত।