১১৪৬ কিমি ঘুরাঘুরির পরও ইমারজেন্সি চিকিৎসা পেলো না রোগী

করোনা রোগ আর থামতেই চাইছে না। ফলে অন্যান্য বড় বড় রোগে যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তারা ঠিকমতো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না অনেক ক্ষেত্রে। আর এমনটাই ঘটেছে একটি পরিবারে। তারা ৪৩ দিন ধরে ১১৪৬ কিমি রাস্তা যাতায়াত করেছে। আর তারা এই কাজটি করেছে এক সরকারি হাসপাতাল হতে অন্য হাসপাতালে কমপক্ষে আটটি বিভাগের ঘোরাঘুরি করে। তাদেরকে অনেকগুলো এম্বুলেন্সের ভাড়া বাবদ লাখ টাকারও বেশি খরচ করতে হয়েছে। তার অপারেশন হয়নি যদিও দ্রুত অপারেশন করার দরকার ছিল। উপরন্তু ওই রোগী করোনা আক্রান্ত হয়ে গিয়েছিলেন।

পূর্ণিমা সরকার নামে ৪৬ বছরের এক ব্রেইন টিউমারের রোগী শিলিগুড়ি আম বাড়িতে থাকেন। তিনি অপারেশন করানোর জন্য কলকাতাতে এসেছিলেন। ইমারজেন্সি অস্ত্রোপচারের দরকার বলায় এসএসকেএম হাসপাতাল তাকে ভর্তি করে নেয়। তা সত্ত্বেও পরবর্তী ৪৬ দিন পরেও কোন চিকিৎসা পরিষেবা পাননি বলে তার পরিবার অভিযোগ করছেন।

পরবর্তীকালে তাকে বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স থেকে করোনা রোগী বলে ওই মহিলাকে কোলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ট্রান্সফার করা হয়। তিনি করোনা রোগ থেকে সুস্থ হয়ে যান। তা সত্ত্বেও পুনরায় বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট তাকে হসপিটালে ভর্তি করতেই অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। তারা দুদিন ধরে হাসপাতালে এরিয়াতে কাটিয়ে দিয়েছেন। এরপর বাধ্য হয়ে শনিবার অনেক রাত্রি বেলাতে অ্যাম্বুলেন্সে বাড়িতে ফিরে গিয়েছেন।

পূর্ণিমা সরকার এর মেয়ে রিয়া জানালেন,” শনিবার ঈদ এবং রবিবার ছুটি বলে মাকে ভর্তি নেওয়া হয়নি। তাছাড়া পরে যে কবে ভর্তি করা সম্ভব হবে তাও এসএসকেএম আমাদেরকে জানায়নি। আমরা একটা হোটেলে এতদিন ভাড়া করে ছিলাম। সেই স্থানের মালিক মাকে করবি মনে করে হোটেলে ঢুকতে দিতে চাননি। আমাদের কাছে বাড়ি চলে যাওয়া ছাড়া আর কোনো রাস্তা ছিল না।”

তার পরিবারের লোকেরা আরো জানিয়েছে, জুন মাসের ১৯ তারিখে এসএসকেএম হাসপাতালে এমার্জেন্সি বিভাগে তাকে অ্যাডমিশন করানো হয়। তার করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ ধরা পড়েছিল। তা সত্ত্বেও তাকে জুলাই মাসের ৪ তারিখে অন্যান্য কয়েকজন করোনা রোগীর সঙ্গে ছুটি দেওয়া হয়। ফলে তারা কয়েকদিন হোটেলে থাকেন। এরপর জুলাই মাসের ১৪ তারিখে এসএসকেএমের এমার্জেন্সি ওয়ার্ল্ড থেকে বাঙ্গলি ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস তাকে রেফার করা হলে ভর্তি করা হয়েছিল। এরপর জুলাই মাসের ১৭ তারিখে তাকে অপারেশন করার ডেট দেওয়া হয়। কিন্তু ঐদিন সকালবেলায় পূর্ণিমা দেবীর পরিবারের লোকজনকে বলা হয়, ওনার করোনা পজিটিভ। তাই মেডিকেল কলেজে পাঠাচ্ছি।”

জুলাই মাসের ১৭ থেকে ৩১ তারিখ পর্যন্ত মোট ১৪ দিন কলকাতা মেডিকেল থাকার পর পূর্ণিমা দেবের করো না রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। ফলে তাকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এই সরকারি হাসপাতালের রিপোর্ট দেখানোর পরও বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট উনাকে আর ভর্তি করতে চায়নি। তারা বলে যে রোগীকে সত্যিই করোনা নেগেটিভ হয়েছে তা মেডিকেলের ডাক্তারকে দিয়ে লিখিত প্রমাণ আনতে হবে। তাদের কথা অনুসারে ডিসচার্জ সার্টিফিকেটে রোগী করোনা নেগেটিভ লিখে আনে পরিবার। এই সার্টিফিকেট দেখানোর পরও বলে যে এতে স্টাম্প নেই। এরপর রিয়া মেডিকেলের করোনা এলাকার চার পাঁচটি বিল্ডিং ঘোরাঘুরি করার পর অনেক কষ্টে স্টাম্প করে নিয়ে আসে। তারপর বাঙ্গুর থেকে বলা হয় যে বহির্বিভাগ আজকের মতো বন্ধ। শনিবার যেতে হবে। শনিবার বলা হয় যে ঈদের জন্য বন্ধ রয়েছে আজকে। সামনের সপ্তাহে আসুন।”

এরপর হোটেল কর্তৃপক্ষ তাদেরকে আর ঢুকতে দিতে চাননি। হলে হাসপাতালে বাধ্য হয়ে থাকতে হয় তাদের রাত্রিবেলা। তার পরিবার অভিযোগ করছে যে শনিবার সুপারের সঙ্গে কথা বলার পরও তিনি বলেন মঙ্গলবার এর পূর্বে কোন কিছুই করা যাচ্ছে না।
এ প্রসঙ্গে এসএসকেএম সুপার রঘুনাথ মিশ্র বলছেন,” রোগীর পরিবার আমার সঙ্গে কথা বলেছে। তবে তাকে বহির্বিভাগে দেখানো ছাড়া ভর্তি করার উপায় আমার কাছে সম্ভব ছিল না।”
তবে বারবার তাকে ঘোরানো হলো কেন সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন,” অবশ্যই তদন্ত হবে।”