ভারতবাসীর হুজুগের পরিসমাপ্তি এবং চীনের আলোতেই সেজে উঠছে দীপাবলি

একদিকে মহামারী অন্যদিকে চীনের সঙ্গে যুদ্ধ, সবকিছু মিলিয়ে যখন ভারতের অবস্থা জেরবার,যখনই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে আত্মনির্ভর হবার জন্য ডাক দিয়েছিলেন। তিনি গান্ধীজীর সুরে বলেছিলেন যে, প্রত্যেককে আত্মনির্ভর হতে হবে, তবেই প্রতিবেশী দেশ আমাদের কাছে হার স্বীকার করবে। তার ডাকে সাড়া দিয়ে অনেকেই চীনা পণ্য বয়কট করার জন্য রাস্তায় নেমেছিল। কয়েক ধাপ এগিয়ে গুজরাটের এক রাজনৈতিক নেতা তার বাড়ি থেকে রাস্তায় ফেলে দেন, কারণ সেই টিভি ছিল একটি চীনা কোম্পানি তৈরি। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সবকিছুই পাল্টে যায়। তাই হুজুগে বাঙালি বা বলা ভাল হুজুগে ভারতবাসীর চীনা পণ্য বয়কট এর সেই হুজুগ অচিরেই নিভে যায়। (Diwali 2020 News : Excitement is gone and Indian are celebrating Diwali with China product)

জানবাজার হোক অথবা গড়িয়াহাট,সর্বত্র দীপাবলির বাজারে নিজেদের বাড়িকে আলোতে ভরে রাখার জন্য কেনা হচ্ছে চায়না বাতি। কুড়ি থেকে শুরু করে ২২০ টাকা, সব দামের চিনা বাতি পাওয়া যাচ্ছে রাস্তায়। একই বাজারে মাটির প্রদীপের দোকান কিন্তু অনেকটাই খালি। খদ্দেরকে নিজেদের দিকে টানার জন্য অনেকেই প্রদীপকে আরো রং করে আকর্ষণীয় করার চেষ্টা করে চলেছেন। কিন্তু ক্রেতাদের মধ্যে মাটির প্রদীপ কেনার কোনরকম আগ্রহ দেখা গেল না।

গড়িয়ার রঞ্জন ভট্টাচার্য মাটির প্রদীপের দাম জানার পর বললেন,”জানেন তো, মাটির প্রদীপ এর মূল সমস্যা হলো সবসময় সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়। সলতে ঠিক আছে কিনা, তেল ফুরিয়ে গেল কিনা,এসব দিকে নজর রাখার পাশাপাশি বাড়ির বাচ্চাদের নজর রাখতে হয় সব সময়। না হলে ঘটে যাবে দুর্ঘটনাl”

মাটির প্রদীপ এর পাশাপাশি মোমবাতির দোকানেও সে রকম দেখতে পাওয়া গেল না। তাই বাধ্য হয়ে মোমবাতির দোকানের বিক্রেতারা দোকানে তুলেছেন চায়না বাতি।তাদের মধ্যে একজন বিক্রেতা মোহাম্মদ সিরাজ জানিয়েছেন যে,”আমরা দোকান দি জিনিস বিক্রির জন্য। এবছর বাজি বন্ধ থাকাতে আমরা বেশিরভাগ বাতির দোকান দিয়েছি। মোমবাতি থেকে চায়না বাতি চাহিদা অনেকটা বেশি লোকের কাছে। তাই যে জিনিস মানুষ কিনবে, আমাদের কেও সেই জিনিস রাখতে হবে”।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দীর্ঘ লকডাউন থাকার ফলে অনেকেরই পকেটে টান পড়েছে। ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি আলোক কেনা থেকে চায়না আলো কেনা অনেকটাই সস্তা। তাই পকেট বাঁচানোর জন্য কিছুটা বাধ্য হয়ে কিনতে হচ্ছে চায়না বাতি। কিন্তু চাইনিজ মালের কোন গ্যারান্টি নেই তা জেনেও সকলে কেনে এই জিনিস। কারণ সকলেই জানেন আসছে বছর আবার হবে। তাই আসছে বছর আবার কিনবো।

excitement gone and Indian are celebrating Diwali with China product
ভারতবাসীর হুজুগের পরিসমাপ্তি এবং চীনের আলোতেই সেজে উঠছে দীপাবলি