“গুলশান মামা তোমাকে সব থেকে বেশি ভালোবাসি”- কেঁদে ফেলল সুশান্তের ভাগ্নি

জুন মাসের ১৪ তারিখে বিখ্যাত বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত অকাল মৃত্যুবরণ করেছেন। ইতিমধ্যে তিনি তাঁর অভিনয় দ্বারা সমগ্র ভারতবর্ষে মন জয় করে ফেলেছেন। প্রথমদিকে মুম্বাই পুলিশ ধারণা করেছিল যে সুশান্ত সিং আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু এর পরেই খটকা লাগতে শুরু করে তার বন্ধু-বান্ধব এবং ফ্যানদের। এত হাসিখুশি একটা ছেলে আত্মহত্যা করবে একথা কেউই মেনে নিতে পারছেন না।

প্রসঙ্গত, খুব ছোটবেলায় সুশান্ত সিং রাজপুত এর মা মারা যায়। আর তখন তিনি অত্যন্ত ভেঙে পড়েছিলেন। এখনো পর্যন্ত তার বাবাকে কে কে সিং বেঁচে আছেন। আর স্বাভাবিক ভাবেই তিনি তার ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন।
আর এই মুহূর্তে সুশান্তের মামলা নিয়ে গোটা ভারতে তোলপাড় চলছে। আর আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন যে সুশান্তের এক ভাগ্নির নাম কাত্যায়নী আর্য রাজপুত (Katyayni Aarya Rajput- Suahant SIngh Rajput’s Neice)। সে ইনস্টাগ্রামে তার মামার কথা বলে কেঁদে ফেলেছে। আর তারে আবেগময় পোষ্ট পড়ে লোকজন চোখের জল ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন।

ভাগ্নি তার মামাকে উদ্দেশ্য করে বলেন,’ গুলশান মামা, এই পৃথিবীতে আমি সবথেকে বেশি ভালোবাসি তোমায়(Gulshan Mama, I Love You More Than Anything In The World)। এর থেকেও মূল্যবান তুমি আমার কাছে। ভবিষ্যৎকালে হয়তোবা আমরা আকাশের দিকে তাকাবো আর প্রকৃতির রহস্য নিয়ে আলোচনা করব।”

সে বলে চলেছে,” জীবন সম্পর্কে যে ধারণা তুমি আমাকে দিয়েছো তা আমাকে অভিভূত করেছে। আর তারা সবসময় আমাকে নিজের কাজ আরও কঠোর ভাবে পালন করতে বলেছে।”

“আমি কখনো ভাবি নি যে আমাকে এরকম একটা দিন দেখতে হবে। স্বপ্নেও কল্পনা করিনি যে তোমার কথা আর শুনতে পাবো না। অন্যরা তোমাকে নিয়ে যতটা ভাবে তার থেকে আরও বেশি কিছু তুমি। আমি তোমাকে নিয়ে যতটা ভেবেছি তার থেকেও অনেক বেশি কিছু করার ক্ষমতা রাখো তুমি।”

“তোমার মধ্যে অপ্রতিরোধ্য শক্তি রয়েছে যা এই পৃথিবী ও ধরে রাখতে পারল না। তুমি একদিন আমাকে বলেছিলে যে, বাস্তবে আমরা মরতে পারি না। আমি তোমার কথা বিশ্বাস করেছিলাম। কিন্তু দিনের পর দিন সেই কথা আর বিশ্বাস করতে পারছি না।”

“আশাকরি আমি একটা প্যারালাল পৃথিবীতে যাব যেখানে আমাদের আবার দেখা হবে। সেখানে হয়তো আমরা দুজনে একসাথে হাসাহাসি করব আর যেখানে পৃথিবী একটা সুন্দর জায়গা। আমরা সেখানে তারা দেখবো আর তুমি বুদ্ধিমত্তার সাথে যে সমস্ত জোক্স বলতে সেগুলো নিয়ে হাসাহাসি করব।”

“আমার সবসময় চিন্তা ছিল যে যখন আমি বড় হব তখন তোমাকে আমাদের বাড়ীতে নিয়ে যাব। আমি জীবনে বড় হবো যাতে তুমি আমাকে নিয়ে গর্ববোধ করতে পারো। হয়তোবা কোন প্যারালাল ইউনিভার্সে এই ব্যাপারটা হতে পারে কিন্তু যখন আমি রিয়েলাইজ করে যে আসলেই পৃথিবী তে তা সম্ভব নয়।”

“তবে আমি ভেঙে পড়ে আমার উন্নতি কে নষ্ট করে দেব না। কারণ তা করলে সেটা তোমার লজ্জার কারন হবে। আমার শিরা-উপশিরায় তোমার রক্তই বইছে। গুলশান মামা, তুমি আমাকে নিয়ে একদিন গর্ববোধ করবে। তুমি যেখানেই থাকো না কেন।”