জামাই ও তার দুই বন্ধুর হাতে ধর্ষিত শাশুড়ি, ঘটনায় ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য

এই পৃথিবীতে মাঝে মাঝে এমন অনেক ঘটনা ঘটে যা শুনলে আমাদের লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে যায়। সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার আউসগ্রামে। নাতনিকে দেখতে আসার জন্য জামাই অনুরোধ করেছিল শাশুড়িকে, কারণ তার মেয়ের শরীর খারাপ। স্বামী স্ত্রী মিলে একা সংসার সামলানো অসম্ভব হয়ে গিয়েছিল। তাই আর কয়েকজন সরল বিশ্বাসে মেয়ের শ্বশুর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হবার জন্য জামাইয়ের বাইকে চাপেন বছর বিয়াল্লিশের ওই মহিলা। তখনও কিন্তু ঘুর্নাক্ষরে তিনি টের পাননি যে, তার জামাইয়ের মনে কি অভিসন্ধি রয়েছে। (Ausgram, Purba Bardhaman Rape News: Son-in-law and his two friends – Sajal Bauri, Babu Bagdi and Gour Bauri rape Mother-in -law)

বাড়িতে নিয়ে যাবার নাম করে রাতের অন্ধকারে নির্জন নদীর তীরে নিয়ে এসে শাশুড়িকে গন ধর্ষণ করলো জামাই। জামাইয়ের সঙ্গে ছিল তার দুই বন্ধু। এরকম একটি পাশবিক অত্যাচারে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে গেছে গোটা এলাকায়। ঘটনার পরই জামাইসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ এবং মারধরের অভিযোগ করেন শাশুড়ি। (jamai and two friends gono dhorshon korlo sasuri maa ke in Ayushgram, East Burdwan)

অভিযোগ পেয়ে ইতিমধ্যেই তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে রয়েছেন সজল বাউরী, বাবু বাগদী এবং গৌর বাউরী। তিনজনের বাড়ি আউসগ্রাম এর আদুরিয়া গ্রামে। তাদের তিনজনকে বুধবার বর্ধমান আদালতে তোলা হয়।

ওই বিধবা মহিলা হলেন আউসগ্রাম থানার সীমান্তে বুদবুদ থানা এলাকার ভাতকুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা। তা রয়েছে তিন মেয়ে এবং ছেলে। সকলেরই বিয়ে হয়ে গেছে। দিনমজুরের কাজ করে মহিলা দিন অতিবাহিত করেন। ভাতকুন্ডা গ্রামের পাশাপাশি পরিশা গ্রামে রক্ষাকালী পূজা উপলক্ষে মেলা বসেছিল। এই অনুষ্ঠানে গত সোমবার এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন মহিলা।

সোমবার রাত দশটা নাগাদ তিনি পরিচিতদের সঙ্গে মেলায় ঘুরছিলেন। তখনই ছোট জামাই এর সঙ্গে দেখা হয়। জামাই দেখা হতেই জিজ্ঞাসা করেন যে, মা ভালো আছো। তারপর তাকে ঘুগনি খাওয়ায় জামাই। এরপর বাড়ির খবর জিজ্ঞাসা করতে জামাই জানায় যে নাতনির শরীর খুব খারাপ। তাকে একবার চোখের দেখা দেখে আসার জন্য অনুরোধ জানায় জামাই। শাশুড়ি ও সরল বিশ্বাসে রওনা হয়ে যায় জামাইয়ের সঙ্গে।

কিন্তু বাড়ির দিকে না গিয়ে কুনুর নদীর চরে গিয়ে নিয়ে আসা হয় তাকে। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিল জামাইএর দুই বন্ধু। সকলে মিলে তাকে গণধর্ষণ করে। অভিযুক্তরা সবশেষে মহিলাকে সেখানে ফেলেই বাইক নিয়ে চম্পট দেয়। কোনরকমে আত্মীয়র বাড়িতে ফিরে আসে সেই মহিলা। কিন্তু লোকলজ্জার ভয়ে কাউকে কিছু জানাতে পারেননি তিনি। পরের দিন থানায় গিয়ে জামাইসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এর আগেও ওই গ্রামে আদিবাসী নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগে একজন যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু এবারের ঘটনা যেন আরও একবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দেয় যে, আমাদের সমাজে এখনও আটকে রয়েছে লালসার বেড়াজালে। (Somaj lalosar berajale)

jamai and two friends gono dhorshon korlo sasuri maa ke
জামাই ও তার দুই বন্ধুর হাতে ধর্ষিত শাশুড়ি, ঘটনায় ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য (প্রতীকী ফটো)