থ্রি পর্যন্ত পড়া ঘুঘনি বিক্রেতাকে নিয়ে পিএইচডি! জেনে নিন পরিচয়

অনেক ছোটবেলায় তার বাবার মৃত্যু ঘটে। ফলে পড়াশোনা বেশি দূর করতে পারেননি। যে স্কুলে পড়ালেখা করতেন ঠিক সেখানেই রান্নার কাজ কর্ম সম্পন্ন করতেন। এরপর ঘুগনির দোকান দেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি তার আসল পরিচয় নয়। তার আসল পরিচয় তিনি পদ্মশ্রী প্রাপ্ত জনপ্রিয় কবি।হ্যাঁ বন্ধুরা হাল ধর নাগের (Haladhar Nag) এই সংগ্রামী জীবন কাহিনী আপনাকে উদ্বুদ্ধ করবেই। চলুন জেনে নেয়া যাক তার কাহিনী।

তিনি সাধারণত সাদা ধুতি ওপর তা পরিধান করে থাকেন।আর তার লম্বা তেলে জব জব করা চুল পিঠ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি পায়ে জুতোও পরেন না। স্পষ্টতই এরকম চেহারার একজন ঘুগনি বিক্রেতা কারণ নজরে আসতে সক্ষম হবে না। কিন্তু অনেক মানুষই এখনো অজ্ঞাত যে এই সাধারন ভাবে জীবন যাপন করা মানুষটি একজন বিখ্যাত কবি। তাছাড়া তিনি পদ্মশ্রী খেতাবও লাভ করেছেন।

কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে পুরো জীবনটাই কাটিয়ে দিয়েছেন হলধর নাগ। দশ বছর বয়সে যখন তিনি তৃতীয় শ্রেণীতে পড়াশোনা করেন তখন তার বাবার মৃত্যু ঘটে। ফলে প্রচন্ড দারিদ্র্যের সম্মুখীন হন তিনি। আর তাই পেট চালানোর জন্য মিষ্টির দোকানে বাসন ধোয়া মোছা থেকে রাস্তায় ঘুগনি বিক্রির মতো প্রচুর কঠিন কাজ তাকে করতে হয়েছে। কিন্তু তার মেধা কখনোই তার জীবনের দারিদ্র্যের কাছে থেমে থাকেনি বা থামাতে পারেনি। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করা এই হল ধর্মের উপর সাক্ষাৎ মা স্বরসতীর আশীর্বাদ ছিল। তাই তিনি কলম ধরলেই তার হাত থেকে মুক্তার মত সাহিত্য মালা ঝরে পড়েছে।

অনেক ছোট থেকেই তিনি কোসলি ভাষাতে ছোট গল্প লেখেন। একটু বড় হয়ে কবিতা লেখা শুরু করে দেন। সর্বপ্রথম 1990 সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘ধোদো বটগাছ’ অর্থাৎ বুড়ো বটগাছ লোকাল এক পত্রিকায় পাবলিশ হয়। পরবর্তীকালে তিনি আরও চারটি কবিতা ওই পত্রিকায় পাবলিশ করার জন্য প্রেরণ করেন। আর আস্তে আস্তে সেগুলোও প্রকাশিত হয়।

ফলে পরবর্তীকালে আর তাকে পিছনে তাকাতে হয়নি। পরপর দারুন দারুন সব লেখনি উপহার দিয়ে সাধারণ লোকজন থেকে শুরু করে সমালোচকদেরও ভূয়সী প্রশংসা লাভ করেন হলধর। তার সবকটি কবিতা এক করে হলধর গ্রন্থাবলী নামে একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত করেছে সম্বলপুর বিশ্ববিদ্যালয়। শীঘ্রই এই বইয়ের দ্বিতীয় পর্ব আসতে চলেছে। আর এই সময়ে দাঁড়িয়ে তার প্রতিটি লেখনি নিয়ে গবেষণা অর্থাৎ পিএইচডি করছেন পাঁচজন অধ্যাপক।

president awards padmasree to haladhar nag
রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি হলধর নাগ কে পদ্মশ্রী পুরষ্কারে ভূষিত করছেন
(ফটো ক্রেডিটঃ গুগোল)


এরপর তার সম্মানে একটি মুকুট যুক্ত হয়। 2016 সালের দিকে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় তাকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করেন। এরপর 2019 সালের সম্বলপুর বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সাম্মানিক ডক্টরেট উপাধিতে ভূষিত করে। কিন্তু এখনো তিনি আগের মতোই সাধারণ জীবন যাপন অতিবাহিত করেন।

হাই বন্ধুরা, প্রতিদিনের গুরুত্বপূ্র্ণ খবর পাওয়ার জন্য bangla.365reporter বুকমার্ক করে রাখুন। আর ফেইসবুক, টুইটার এবং পিন্টারেস্টে আমাদের সঙ্গে কানেক্ট করতে পারেন। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.