আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে রিটারমেন্টের ঘোষণা করলেন ধোনি

ভারতে অনেক বিশ্ব বিখ্যাত ক্রিকেটার জন্মগ্রহণ করেছেন। আর এই কথা সবাই স্বীকার করবেন যে তার মধ্যে ধোনি একজন (MS Dhoni Is one Of The Greatest Cricketers In India, World)। আজকে শনিবারে নিজেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করে দিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি (MS Dhoni Announces His Retirement)। তার এই দীর্ঘ ১৫ বছররে সোনালী দিনগুলোর কথা ক্রিকেটপ্রেমীরা কখনো ভুলতে পারবেন না (People Will Never Forget His Golden Days Of 15 Years)।

২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ধোনি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। আর তারপর থেকেই লিমিটেড ওভারে অর্থাৎ টি ২০ ( Dhoni In T20 Cricket) এবং ৫০ ওভারের (Dhoni In ODI Cricket) খেলা তে দুর্ধর্ষ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন (Dhoni Introduces Himself As A Destructive Wicket-Keeper Batsman)। আন্তর্জাতিকভাবে তিনি দুর্দান্ত খ্যাতিমান হয়ে ওঠেন। সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড কাপ এর পরে এক বছর ধরে তিনি কোন খেলায় অংশগ্রহণ করেননি। এরপর তিনি অল্প কিছুদিনের জন্য ইন্ডিয়ান আর্মিতে যোগদান করেছিলেন। তারপর একে একে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলাগুলোতে নিজে অংশগ্রহণ করেননি।

এরপর তিনি ইনস্টাগ্রামে নিজেই জানালেন তার রিটায়ারমেন্টের কথা (Dhoni Tells About His Retirement On Instagram)। তিনি বললেন,”অসংখ্য ধন্যবাদ আমার এই যাত্রাপথে ভালোবাসা এবং সমর্থন দেয়ার জন্য। আজ বিকাল ৭:২৯ থেকে আমি অবসর নিয়ে নিলাম।”
এতদিন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রচুর পরিমাণে তর্ক বিতর্ক চলছিল।

এমনকি একটা কথা অনুমান করা যাচ্ছিল যে নির্বাচকেরা ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করছেন। আর অবশ্যই তরুণ উদীয়মান খেলোয়াড় যেমন রিসব পন্ত, সঞ্জু স্যামসন, ঋদ্ধিমান সাহা এবং ঈশান কিষান কে তারা সুযোগ দিয়েছিলেন তৈরি হওয়ার।

ধোনির জন্ম হয়েছিল ঝাড়খন্ডে। এরপর তার মাথা ঠান্ডা রেখে ম্যাচগুলো বের করে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতার জন্য তাকে ক্যাপ্টেন কুল বলা হয়। তার সবথেকে বড় কৃতিত্ব হলো তিনি ক্যাপ্টেন হিসেবে ২০০৭ সালে টি ২০ বিশ্বকাপে ভারতকে চ্যাম্পিয়ন করার যোগ্যতা অর্জন করেন (Dhoni Leads India To Victory In 2007 T20 Against Strong Pakistan)। গোটা বিশ্ব সেদিন থমকে গিয়েছিলো। ভারতের প্রবল প্রতিপক্ষ পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে জিতে ধোনি এবং ভারতীয় ক্রিকেট দল ইতিহাস গড়েছিল।

এর ৪ চার বছর পর ধোনির নেতৃত্বে ভারত দ্বিতীয়বারের মতো ২০১১ সালের একদিনের আন্তর্জাতিক খেলায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে (Again, Dhoni As A Captain, Leads India To ODI Victory In 2011 Against Sri Lanka)। প্রচন্ড শক্তিশালী শ্রীলংকা ক্রিকেট দলকে বিশাল বড় ৬ হাঁকিয়ে ধোনি ভারতের ক্রিকেট দলকে বিশ্বকাপ পাওয়ার গৌরব এনে দেয়। তিনি এই ম্যাচে ৯১ প্রাণ করেও নট আউট ছিলেন। আর এই ঘটনাটি গোটা ক্রিকেট প্রেমীদের কাছে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এরপর ২০০৫ সালে বিশাখাপত্তনমে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১৪৮ রান করেন। আর এর ফলে পাকিস্তানের ইনিংস ধসে যায়।

সবশেষে, ধোনির নেতৃত্বে ভারত ২০১৩ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি লাভ করে (Dhoni Leads India To ICC Champions Trophy in 2013)। ধ্বনি একমাত্র ক্যাপ্টেন যিনি আইসিসির লিমিটেড ওভারের তিনটি খেতাব অর্জন করেছেন। আর ধোনির নেতৃত্বে ভারতের ক্রিকেট র্যাংক টপ পজিশনে চলে যায়।

পুরস্কার
ধ্বনি অনেকগুলো মূল্যবান পুরস্কার লাভ করেছেন। রাজীব গান্ধী খেলরত্ন, দা পদ্মশ্রী এবং দা পদ্মভূষণের মত ভারতীয় সম্মানীয় পুরস্কার গুলো লাভ করেছেন। তিনি আইসিসির একদিনের ফরমেটে দুবার প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হন। ২০০৭ এবং ২০১৮ সালে। আর তিনি একমাত্র ক্রিকেটার যিনি এই পুরস্কারটি দুবার জিতেছেন।

আর একথা স্বীকার করতেই হবে যে, ধোনি ভারতবর্ষ তথা গোটা পৃথিবীর মধ্যে একজন পপুলার খেলোয়ার। তিনি তার পিছনে রেখে গেলেন ক্রিকেটের এক স্বর্ণযুগের কথা (Dhoni Creates A legacy In Cricket)।