টানা ছয় ঘন্টা জেরায় নাজেহাল রিয়া চক্রবর্তী! মুখ ফসকে বলে ফেললেন…

এই মুহূর্তে বিখ্যাত বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত এর মৃত্যুতে গোটা ভারতবর্ষে জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে। সিবিআই, এনসিবি এবং ইডি বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে কেসটা কে দেখার চেষ্টা করছেন (CBI, NCB and ED are trying to solve Sushant SIngh Rajput Death case mystery)। ইতিমধ্যে সুশান্তের এক্স গার্লফ্রেন্ড রিয়া চক্রবর্তীর ভাই সৌভিক চক্রবর্তী এবং ম্যানেজার স্যামুয়েল মিরান্ডাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরপর রিয়া চক্রবর্তী কে টানা 6 ঘণ্টা ধরে জেরা করা হয়।

এত দীর্ঘক্ষন ধরে জেরা করার ফলে অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী নাজেহাল হয়ে গিয়েছেন (Actress Rhea Chakraborty, the ex girlfriend of Rajput collapses after 6 hours long Interrogation)। তিনি একটা সময়ে স্বীকার করে নেন গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা। তিনি বলেন যে তার ভাই সৌভিক কে দিয়ে মাদকদ্রব্য আনাতেন। আর এ বিষয়টি মূলত বড় বড় সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেল। তবে এই মাদক কে গ্রহণ করতেন সে ব্যাপারটি এখনো জানা যায়নি। কারণ রিয়া চক্রবর্তী এই ব্যাপারে মুখ খোলেননি।

এছাড়া আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য গড় গড় করে বলে দিলেন রিয়া চক্রবর্তী। তিনি বললেন যে, একথা সত্যি যে আমি ভাইয়ের সঙ্গে মার্চ মাসের ১৭ তারিখে মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট করেছিলাম (I chat about drugs with my brother Showik Chakraborty, says Rhea)। এনসিবির জেরাতে এই কথাটি বলে দিলেন তিনি। প্রথমদিকে অবশ্য তিনি কিছু বলতে চাননি। কিন্তু এরপরে কি ঘটলো দেখুন।

এনসিবি রিয়া চক্রবর্তী কে ক্রমাগত প্রশ্ন করেই যেতে থাকে। মূলত এই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাটি সুশান্তের মৃত্যু মামলার আসল রহস্য উদ্ধার করেই ছাড়বেন। আর সেই জন্য এই অফিসাররা কাউকে একবিন্দু ছাড় দিচ্ছেন না। তাই তারা ক্রমাগত রিয়া চক্রবর্তী কে প্রশ্ন করে চলেন। তাকে এনসিবি প্রশ্ন করে,”আপনি কি আপনার ভাই সৌভিক কে দিয়ে মাদকদ্রব্য সরবরাহ করাতেন কিনা?” আর রিয়া এই প্রশ্নের উত্তরে হ্যাঁ বলেন। তবে এই মাদক দ্রব্য কে বা কারা গ্রহণ করত সে বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি।

এখনো পর্যন্ত পুরো ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়নি। কারণ রিয়ার কথা থেকে স্পষ্ট নয় যে এই মাদকদ্রব্য আসলে কে গ্রহণ করতেন? এই মাদকদ্রব্য কি সুশান্ত গ্রহণ করতেন, নাকি অন্য কেউ নাকি রিয়া চক্রবর্তী নিজে ? এই ব্যাপারটা সম্পর্কে রিয়া একদম চুপ করে ছিলেন। তাছাড়া কত পরিমাণে ড্রাগ কেনা হয়েছে, কত টাকা দিয়ে কেনা হয়েছে- এই ব্যাপারটি ও রিয়া বলেননি। রবিবার টানা 6 ঘন্টা ধরে রিয়া চক্রবর্তী কে প্রচন্ডভাবে জেরা করা হয়। তারপর তাঁকে রেহাই দেয় ভারতের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার অফিসারগণ।

এনসিবির অফিসাররা সংবাদ মিডিয়া কে বলেন,”রিয়া আজকে দেরি করে এসেছে। ফলে আমরা তদন্ত সম্পূর্ণরূপে করতে পারলাম না। আর এই কারণে তাকে পুনরায় ডাকা হবে। আরে সেটা আগামীকাল হবে।” এই তথ্যটি এনসিবির ডিরেক্টর সমীর ওয়াংখেড়ে জানালেন।

এখনো পর্যন্ত রিয়া চক্রবর্তী কে গ্রেফতার করার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। আর এই ব্যাপারটা এনসিবির তরফ থেকেই জানা গিয়েছে। তবে আজ সোমবার পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের দপ্তরে হাজির হওয়ার কথা বলেছে এনসিবির অফিসাররা।