বিয়ের কথা না উঠলেও, সুশান্তের সন্তান পেটে ধরতে চেয়েছিলাম- রিয়া চক্রবর্তী

স্বপ্নের মধ্যে নাকি সুশান্ত কে দেখতে পেয়েছিলেন রিয়া চক্রবর্তী। হ্যাঁ বন্ধুরা, আজকে আমি আপনাদেরকে বিস্তারিত বলতে চলেছি যে কিভাবে রিয়া এবং সুশান্তের মধ্যে সম্পর্ক শুরু হয়। আর এই কথাটি রিয়া চক্রবর্তী সাংবাদিকদের কাছে সবিস্তারে ব্যক্ত করেছেন। তিনি সাক্ষাৎকারে তাদের দুজনের সম্পর্কের অনেকগুলো কথা ফাঁস করে দেন। চলুন এক এক করে জেনে নেই। (Rhea Chakraborty Sees Sushant SIngh Rajput in a Dream.)

রিয়া বললেন,”সুশান্ত আমাকে স্বপ্নে দেখা দিয়েছিলো (I see Sushant in a dream)। আর সেখানেই বলেছিলো যে, আর গোপন করে লাভ নেই। আমাদের মধ্যেকার স্বপ্নের ব্যাপারটা সবাইকে বলে দাও। আর সত্যি তো একদিন প্রকাশ পাবেই। অযথা দেরি করে লাভ নেই।”

রিয়া জানালেন যে, ২০১৩ সালে তিনি যখন তার পেশাদার জীবন শুরু করেন তখনই সুশান্তের সঙ্গে পরিচয় হয়ে যায়। আস্তে আস্তে দুজনে ভালো বন্ধু হয়ে ওঠেন। জিম, আওয়ার্ড শো বিভিন্ন স্থানে তাদের দুজনের মধ্যে ঘনঘন দেখা হতে থাকে। আর সেই মুহূর্ত থেকেই নাকি রিয়া সুশান্তকে ভালোবেসে ফেলেন।

পরবর্তীকালে গত বছরে রোহিনী আইয়ার একটি পার্টি এরেঞ্জ করেন। আর সেখানেই সুশান্ত রিয়াকে প্রপোজ করে বসেন। এরপর সুশান্ত এবং রিয়ার মধ্যে বিয়ে হওয়ার কোনো কথাবার্তা হয়েছিল কিনা সেগুলো সম্পর্কেও প্রশ্ন করা হলো। তো চলুন জেনে নেই রিয়ার উত্তরটি কি ছিল ?

রিয়া বললেন,”আমরা দুজন কখনোই বিয়ের কথা বলিনি। তবে আমরা দীর্ঘকাল ধরে সম্পর্কে আবদ্ধ ছিলাম। আর এই সম্পর্ক মৃত্যুর পরেও একই থাকবে। আমার ভীষন শখ ছিল ওর সন্তান পেটে ধরার (Rhea says that she wishes to be impregnated by Sushant)। ছোট্ট সুশান্ত চেয়েছিলাম আমি। আর আমরা দুজনে স্বামী স্ত্রীর মতোই কথাবার্তা বলতাম সবসময়।”

এরপর আরও গুরুত্বপূর্ণ কথা বললেন রিয়া চক্রবর্তী। তিনি জানান যে, সুশান্ত মানসিকভাবে হতাশ হয়ে গিয়েছিল। তার বাইপোলার ডিজঅর্ডার নামে একটি রোগ ছিল। আর লকডাউন এর ফলে তার রোগের লক্ষণ আরো বৃদ্ধি পায়। এরপর জুন মাসের ৩ তারিখে সুশান্তের ডাক্তার কেরসি ছাব্রা এবং সুশান্তের মধ্যে কথাবার্তা হয়। আর তখন সেই ডাক্তার জানান যে, সুশান্তকে খুব তাড়াতাড়ি ওষুধ খেতে হবে এই হতাশা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য।

এরপর রিয়াকে প্রশ্ন করা হলো যে, জুন মাসের ৮ তারিখে কি কারনে সুশান্তের বাড়ি থেকে চলে এলেন রিয়া ? অভিনেত্রী বললেন যে, সুশান্ত আমার দিকে ভাল করে খেয়াল করতো না। কোন একটা কারনে আমার প্রতি উদাসীন হয়ে পড়েছিল। আমাকে অনেকবার বাড়ি চলে যেতে বলেছিলেন। এর ফলে আমি ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলাম।

রিয়া জানালেন,” জুন মাসের ৮ তারিখে সাইক্রিয়াটিস্ট এর সঙ্গে একটা থেরাপি সেশন এর ডেট ছিলো। আমার ইচ্ছা ছিল সুশান্তের বাড়ি থেকেই এই সেশনটা শেষ করতে। কিন্তু সুশান্ত জানিয়েছিল যে ওর দিদি আসবে একটু পরে। তাই নাকি আমাকে চলে যেতে হবে। আমি অবশ্য জানিয়েছিলাম যে, মিতু দি এলেই তারপর যাব। সুশান্তের পরিবারের সবাই আমাকে অপছন্দ করত। অবশ্য এখন সেটা সবাই পরিষ্কার বুঝে গিয়েছে।”

জুন মাসের ৮ তারিখে রিয়া সুশান্তের বাড়ি ছেড়ে দেন। আর সেই মুহূর্তে তিনি অসুস্থ ছিলেন। তার অসুস্থতার সুশান্ত তার পাশে ছিলেন না। এর ফলে তার ভীষণ খারাপ লেগেছিল।