খিদিরপুরে শ্যালকের হাতে খুন জামাইবাবু, জেনে নিন কারন

মানুষকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব বলে মনে করা হয়। আবার মানুষের দ্বারা ঘটিত কিছু কিছু কার্যের ফলে মনে হয় মানুষের থেকে নৃশংস জীবও পৃথিবীতে আর দ্বিতীয় কেউ নেই। প্রায়শই খবর পাওয়া যায় পারিবারিক দ্বন্দ্বের ফলে খুনো-খুনির কথা। বলা হয় হিংসা পতনের মূল। হিংসা ক্ষোভ কতটা তীব্র হলে একজন মানুষ তারই নিজের পরিবারের সদস্যকে খুন করতে পারে! সাম্প্রতিক এমনই একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমে।

দীর্ঘদিনের পারিবারিক দ্বন্দ্বের ফলে শ্যালক ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করেছেন তার নিজের জামাই বাবু কে (365 Reporter Bangla News from Khidirpur: Son in law killed his jamai babu named Mohammad Aftab Alam, in Khidirpur)।

খিদিরপুরে ৪৬ বছর বয়স্ক এক ব্যবসায়ীকে খুন করার অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেন তার শ্যালক কে। অভিযুক্তের নাম ইমরান (Son in law Imran)। জানা গেছে বেশ কিছুদিন ধরেই পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিল জামাইবাবু আর শালকের মধ্যে। তবে এলাকাবাসী ভাবতে পারেনি এই পারিবারিক দ্বন্দ্ব এতটা চরম পর্যায়ে পৌঁছে যাবে যে এই ব্যবসায়ীকে অবশেষে খুন হতে হবে। মৃতের নাম “মহম্মদ আবতাব আলম”। খিদিরপুরে তার একটি গার্মেন্টস -এর দোকান আছে।

khidirpur
খিদিরপুর

বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই এই ব্যবসায়ীর সাথে তার শ্যালক ইমরানের দ্বন্দ্ব চলছিল। বুধবার দুপুর তিনটের সময় ইমরান তার জামাই বাবুর সাথে দেখা করতে আসে বলে জানা গেছে। সেই সময় দোকানে এই ব্যবসায়ী ছাড়াও কয়েকজন ক্রেতা এবং দোকানের কিছু কর্মচারী উপস্থিত ছিল। ইমরান দোকানে এসে বেশ রাগান্বিত ভাবেই সকলের উদ্দেশ্যে জানায় যে তার সাথে তার জামাইবাবুর দরকারী কিছু কথা আছে তাই কেউ যেন তাদেরকে বিরক্ত না করে। তার এইরূপ রাগান্বিত মন্তব্য শুনে সকলেই চুপ হয়ে যায়। তারা নিজেদের দিকে মনোনিবেশ করে এবং দোকানের কর্মচারীরা নিজেদের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

এই সময়ে তাই এই ব্যবসায়ীর সাথে ইমরানের তুমুল ঝগড়া শুরু হয়। অবশেষে ক্ষেপে গিয়ে ইমরান ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় জামাইবাবুর উপর। সেই ধারালো অস্ত্র আমুল ভাবে বিধাতায় জামাইবাবুর বুকে। একাধিকবার বুকে কফ চালায় ইমরান তার পর এলাকা থেকে পালিয়ে যায় সে। ব্যবসায়ী রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। চিকিৎসার জন্য তৎক্ষণাৎ তাকে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় একটি হাসপাতালে।

সেখানে চিকিৎসা না করা যাওয়ায় তাকে অপর একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেও কোন ফল মেলেনি অবশেষে আবার একটি অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ব্যবসায়ীকে। এরই মধ্যে ব্যবসায়ী মারা যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দোকান থেকে সম্পূর্ণভাবে ঘিরে সিল করে দেয়। এলাকাবাসীদের কথা শুনে এবং এলাকায় থাকা কিছু সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ তদন্ত করে অবশেষে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত কে।

পুলিশ জানিয়েছেন জেলার পর অভিযুক্ত ইমরান নিজের মুখে স্বীকার করেছেন যে বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই চলছিল তার আর জামাইবাবুর মধ্যে পারিবারিক অশান্তি। বৃহস্পতিবার আদালতে পেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে অভিযুক্ত কে।