সুশান্ত তার জীবনের শেষ মুহূর্তে কি করেছিলো ? শুনুন চার প্রত্যক্ষদর্শীর মতামত

এই মুহূর্তে সিবিআই সুশান্তের মৃত্যু মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেছে। আর তারা সুশান্তের ঘনিষ্ঠ লোকজনকে ক্রমাগত জিজ্ঞাসাবাদ করে যাচ্ছে। আর এই মুহূর্তে চারজন প্রত্যক্ষদর্শী কে ক্রমাগত জেরা করার পর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এলো। তারা জানিয়েছেন মৃত্যুর ঠিক আগের মুহূর্তে সুশান্ত কি করছিলেন ? প্রসঙ্গত, এই ৪ জন ব্যক্তি সুশান্তের সঙ্গে তার মুম্বাইয়ের বান্দ্রার বাড়িতে থাকতেন।

প্রথমে জেনে নিন এই চারজন প্রত্যক্ষদর্শী নাম। প্রথমেই রয়েছে সুশান্তের ফ্ল্যাটম্যাট সিদ্ধার্থ পিঠানি। এরপরে আসছেন নিরাজ (রান্নার লোক), কেশব এবং হাউসকিপার দীপেশ সাওয়ান্ত (Deepesh Sawant- Housekeeper Osf Sushant Singh Rajput)। তাদেরকে কয়েক ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আর তারা তাদের মত করে সুশান্ত কিভাবে তার মৃত্যুর দিন কাটিয়েছেন সেগুলো বলেছেন (Sushant SIngh Rajput’s Last Moments According To Eyewitnesses)। চলুন আর দেরি না করে জেনে নেই।

১. জুনের ১৩ তারিখ রাত্রিবেলা থেকে পরের দিন সকাল পর্যন্ত সুশান্ত সিং রাজপুত তার নিজের ঘর বন্ধ করে কাটিয়ে দিয়েছিলেন। এই চার প্রত্যক্ষদর্শী মুম্বাই পুলিশ এবং সিবিআইকে একই কথা বললেন।

২. ১৪ তারিখে সর্বপ্রথম দীপেশ (Deepesh) ঘুম থেকে ওঠে। তিনি এজেন্সি দের কে বলেছিলেন, আগের দিন রাত্রে যখন সে সুশান্ত স্যারকে রাতের খাবার খেয়ে নিতে বললেন তখন তিনি খাননি। এর পরিবর্তে তিনি ম্যাংগো শেক দিতে বলেছিলেন। তাছাড়া তিনি সবাইকে বলেছিলেন খেয়ে নিতে।

৩. এরপর শাওয়ান্ত বললেন যে, তিনি রাতের খাবার খেয়ে নেন। এরপর মোবাইলে সিনেমা দেখছিলেন। এরপর রাত সাড়ে দশটা নাগাদ তিনি সুশান্তকে ফোনে কল করেছিলেন কিন্তু কোন উত্তর পাননি। তিনি ভেবেছিলেন স্যার হয়তো ঘুমিয়ে গেছেন।

৪. পরদিন সকাল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ তিনি ঘুম থেকে ওঠেন। এরপর একঘন্টা পরে তার প্রার্থনা শেষ করার পর উপরতলায় জান। তিনি সুশান্ত সিং রাজপুত এর রুমে বরাবরের মতো গিয়েছিলেন।

৫. যখন তিনি ধাক্কা দেন তখন দেখতে পান যে অভিনেতা অলরেডি উঠে গিয়েছেন। আর তুমি বিছানাতে বসে রয়েছেন। দীপেশ তাকে গুড মর্নিং বলেন এবং তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করেন যে তিনি তার জন্য চা আনবেন কিনা। কিন্তু সুশান্ত সেই মুহূর্তে চা এবং সকালের খাবার খেতে অস্বীকার করেন।

৬. এরপর সুশান্ত সিং রাজপুত একা ছিলেন। তার ফ্যান চলছিল আর দরজা খোলা ছিল। আর পর্দাগুলো হালকাভাবে তোলা ছিল। আর এই ব্যপারগুলো অন্যদিনের মতো তার কাছে স্বাভাবিক মনে হয়েছিল।

৭. সাতটা নাগাদ কেশব এবং নীরাজ ( Cook Of Sushant Singh Is Neeraj SIngh) ঘুম থেকে উঠে যান। এরপর তিনি তাঁর স্যারকে আট টা থেকে আট টা পনেরো নাগাদ ডাকেন। এরপর সুশান্ত সিঁড়িতে আসেন এবং ঠান্ডা জল চেয়ে ছিলেন।

৮. একঘন্টা পরে কেশব উপরতলায় যান অভিনেতার রুমে। এরপর তিনি সুশান্তকে ডালিমের রস এবং ডাবের জল খেতে দেন। আর তখন সময় হয়েছিল 9:15 সকাল। আর এটাই ছিল শেষ সময়ে যখন তারা তাকে দেখেছিল।

৯. এরপর কেশব বললেন, তিনি যখন স্যারকে দুপুরের খাবারে কি বানাবেন তা জিজ্ঞাসা করলেন, তখন দেখলেন দরজা বন্ধ। আর এটা তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল।

১০. এরপর তিনি সিদ্ধার্থ পিঠানিকে ব্যাপারটা জানান। সিদ্ধার্থ এই চারজনের মধ্যে সুশান্তের সাথে সবথেকে বেশি ঘনিষ্ঠ ছিল।

১১. সিদ্ধার্থ সুশান্তের রুমের উল্টোদিকের ঘরে থাকতেন। আর এটা ঘটত যখন রিয়া চক্রবর্তী (Rhea Chakraborty -Girlfriend Of Sushant Singh Rajput) এখানে থাকতো না।১২. এরপর দীপেশ বললেন যে, 10:30 নাগাদ সিদ্ধার্থ (Siddharth Pithani, Flatmate Of Sushant) তার কাছে এসেছিল। আর তাকে বলেছিল যে স্যার তার রুম বন্ধ করে রয়েছেন।

১৩. আর এই সময়ে প্রত্যেকের ভিতরে ভিতরে দুশ্চিন্তা হচ্ছিল। তার কারণ হলো যে, সুশান্ত শুধুমাত্র সেই মুহূর্তে দরজা বন্ধ করতেন যখন রিয়া চক্রবর্তী কাছাকাছি থাকতো। তারা ভেবেছিল যে, সে হয়তো আবার ঘুমাতে গেছে।

১৪. 15 মিনিট পর তারা আবার দরজায় ধাক্কা দেয়। কিন্তু কোনো উত্তর মেলেনি।

১৫. এরপর সিদ্ধার্থ, সুশান্তের দিদি মিতু সিং (Meetu Singh, Elder SIster Of sushant) কে বলেন যে তার ভাই দরজা খুলছে না। মিতু জানান যে, তারা জন্য চেষ্টা চালিয়ে যায় এবং কি ঘটলো তাকে জানাতে।

১৬. তারা দরজা খোলার প্রচন্ড চেষ্টা চালিয়ে যায়। তারা ধাক্কা দিয়েছিল ভীষণ জোরে কিন্তু কোন পরিবর্তন হলো না।

১৭. সেই মুহূর্তে 11:15 বেজে গিয়েছিলো। এই চারজন অভিনেতার ঘরের বাইরে ধাক্কাধাক্কি করছিল। এরপর তারা পুলিশ এবং সিবিআইকে ব্যাপারটা জানায়।

১৮. এরপর তারা এই দরজার তালার চাবি খোঁজ করতে থাকে। তারা সুশান্ত সিং এর ম্যানেজার স্যামুয়েল মিরান্ডাকে ব্যাপারটা জানায়। তারা শোনে যে, মিরান্ডার কাছে কোনো এক্সট্রা চাবি আছে কিনা? কিন্তু তার কাছে ছিল না।

১৯. এরকমভাবে দরজা খোলার চেষ্টা চালাতে চালাতেই এক ঘন্টা কেটে যায়। এরপর তারা মিতু সিং এর কাছে কল করে। এরপর পিঠানি তালার মিস্ত্রী কে কল করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর সে বিল্ডিং এর সিকিউরিটি গার্ডের কাছে জিজ্ঞাসা করে যে, তার জানামতে কোন তালার মিস্ত্রী আছে কিনা ?

২০. এরপর গার্ড রাজু জিজ্ঞাসা করে কেন ? কি দরকার ? তখন সিদ্ধার্থ তাকে বলে যে রুমের দরজা জ্যাম হয়ে গিয়েছে। এরপর সিকিউরিটি তাকে একটু অপেক্ষা করতে বলে। সিদ্ধার্ত তখন গুগলে তালার মিস্ত্রিদের খোঁজ করতে থাকে এবং একজনকে পেয়ে যায়।

২১. আর সেই লোকটা তার কাজের জন্য 2000 টাকা দাবি করে। সে যখন সুশান্তর বাড়িতে পৌঁছায় তখন তাকে বলা হয় যে সেজন্য কাউকে না বলে যে সে সুশান্ত সিং এর বাড়িতে এসেছিল।

২২. সে তালা ভেঙে দেয় এবং তাকে সঙ্গে সঙ্গে টাকা দিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সে চলে যায়।

২৩. এরপর সিদ্ধার্থ বলে যে, সে ভেবেছিল যে লোকটাকে না বলাই ভাল ছিল যে কি ঘটেছে ? আর কার বাড়ি এটা ?

২৪. সে চলে যাবার পর সাওয়ান্ত এবং পিঠানি ঘরের মধ্যে ঢোকে। সেই মুহূর্তে নীরাজ বাইরে অপেক্ষা করছিল। আলো বন্ধ ছিল এবং পর্দাগুলো টানা ছিল।

২৫. এরপর তারা আলো জ্বালিয়ে দেয়। আলো জ্বালিয়ে তারা যা দেখতে পায় তা দেখে তারা শক খেয়ে যায়। তারা দেখে যে সুশান্ত সিং রাজপুত ঝুলছে।

২৬. এরপর সিদ্ধার্থ মিতু সিং এর কাছে কল করে এবং তাকে খবরটা জানিয়ে দেয়। সেই মুহূর্তেও মিরাজ এবং কেশব রুমের বাইরে দাঁড়িয়েছিল।

২৭. পিঠানি এরপর ১০৮ নম্বরে ডায়াল করে এবং বলে যে একটা এম্বুলেন্স এবং ডক্টর দরকার। এরপর তার কাছে জানতে চাওয়া হয় পেশেন্ট নাম কি ? সে প্রথমে বলেছিল তার একজন বন্ধু। কিন্তু বারবার নাম জানতে চায় সে বলে দেয় যে সুশান্ত সিং রাজপুত।

২৮. এরপর এই অভিনেতার দিদি পিঠানির ফোনে কল করে। এরপর তার জামাইবাবু যখন শুনতে পায় কি ঘটেছে তখন সে তাকে নিচে নামাতে বলে এবং দেখতে বলে যে তার নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস চলছে কিনা ।

২৯. এর পাঁচ মিনিট পর অভিনেতা কে নিচে নামানো হয় এবং তাকে বিছানায় শুইয়ে দেয়া হয়। আর সেই মুহুর্তেই তার দিদি মিতু ঘরে ঢোকে এবং অকস্মাত্ চিৎকার করে ওঠে,” গুলশান, তুমি এটা কি করলে, বাবু?”

৩০. এরপর পিঠানি তদন্তকারী অফিসারদের বললেন যে, তারা সুশান্তের জ্ঞান ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছিলেন। এরপর পুলিশ এসে হাজির হয়।