সুশান্তের পরিবার ৯ পেজের খোলা চিঠি তুলে ধরল! কী আছে সেই চিঠিতে?

যত দিন যাচ্ছে সুশান্তের (Sushant Singh Rajput )আত্মহত্যার মামলাটি আরো জটিল আকার ধারণ করছে। বোঝা যাচ্ছেনা তদন্ত কোনদিকে মোড় নেবে। তবে আশার কথা হলো যে সিবিআই (CBI) এবং ইডি (ED) যৌথভাবে এই ব্যাপারটিকে নিয়ে তদন্ত করছে। ইতিমধ্যে সুশান্ত এর পরিবার ৯ পাতার একটি খোলা চিঠি পেশ করেছে। আর তাতে তারা স্পষ্ট বলেছে যে অভিনেতাকে মেরে ফেলা হয়েছে।

এর আগে এমপি সঞ্জয় রাউত (MP Sanjay Raut), সুশান্ত সিং রাজপুতের বাবা সম্পর্কে একটি মন্তব্য দিয়েছিলেন। আর তার পরদিনই অভিনেতার পরিবারের পক্ষ থেকে এই স্টেটমেন্ট দেওয়া হয়। এই পুরো চিঠিটি লেখা হয়েছে হিন্দিতে। আর এতে বর্ণনা আছে তারা কিভাবে একটা ছোট গ্রাম থেকে শহরে চলে আসে। আর এটা তাদের উদ্দেশ্য ছিল যে, তাদের বাচ্চারা যেন সুন্দরভাবে জীবন-যাপন করতে পারে। আরো ভালো ভাবে বেড়ে উঠতে পারে।

এই চিঠিতে সুশান্তের বাবা বলেন,” আমাদের কাছে সুশান্ত গুলশান। ও এমনিতেই খুব উৎসাহিত থাকতো, একটু বেশি কথা বলতো আর ভীষণ মেধাবী। ও সমস্ত কিছুতেই কৌতুহল প্রকাশ করতো। ওর স্বপ্নের কোনো বাধা ছিল না এবং এই স্বপ্নগুলো সিংহ হৃদয় নিয়ে জয় করার চেষ্টা করত। ওর হাসি পাগল করা। ও আমাদের পরিবারের গর্ব এবং আমাদের উৎসাহ দিত। ও মাঝে মাঝে তারাদের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকতো।”

সুশান্তর পরিবার আরও বলে,” আমরা এখনো মেনে নিতে পারছি না যে আমরা ওর ওই হাসি আর দেখতে পাবো না। ওর ওই ঝকঝকে চোখ আর আমাদের কপালে নেই। বিজ্ঞান সম্পর্কিত অন্তহীন কথাবার্তা আর আমরা শুনতে পাবো না। ওর এই শূন্যতা আর কোনদিন পূর্ণ হবে না।”

তাছাড়া এই চিঠিতে আরও অনেক মর্মস্পর্শী কথা লেখা হয়েছে। চিঠির ভাষা অত্যন্ত করুণ। এখানে বলা হয়েছে যে, পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের মধ্যে নিবিড় বন্ধন রয়েছে (Sushant’s family releases 9 page open letter)।

প্রসঙ্গত, ২০০২ সালে সুশান্তর মাতা ঊষা দেবী মারা যান। আর এর ফলে সুশান্ত খুব হতাশ হয়ে পড়ে। আর সুশান্তের বাবার বুকেও শেল বাঁধে। সুশান্তর মার বিয়োগ তাদের পরিবারকে কতটা ভেঙে দিয়েছিল সে কথা চিঠিতে বলা হয়েছে।

তাছাড়া এই চিঠিতে সুশান্তের মামলা সম্পর্কে কথা বলা হয়েছে। আর তাদের প্রশ্ন তারা সত্তিকারের বিচার পাবে কিনা ?
প্রথম দিকে এই কেসে মুম্বাই পুলিশ তদন্ত করছিল। পরে বিহার পুলিশ এতে যোগদান করে। আর এখন সিবিআই এই ব্যাপারটি নিয়ে তদন্ত করছে এবং সুশান্তর পরিবার থেকে রিয়া চক্রবর্তী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। রিয়া চক্রবর্তীর পরিবার ছাড়াও সিবিআই স্যামুয়েল মিরান্ডা, শ্রুতি মোদি এবং অন্যান্য আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে।

এরই মাঝে ইডি সিদ্ধার্থ পিঠানি এবং শ্রুতি মোদিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। অবশ্য এর পূর্বেই তারা রিয়া (Rhea Chakraborty) এবং তার ভাই শোয়িক চক্রবর্তী কে জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন করেছে। এখানে তাদের একটাই প্রশ্ন ছিল যে সুশান্তের সঙ্গে তারা কিভাবে আর্থিক লেনদেনে জড়িত ছিল।