দেশপ্রেমের গভীর নিদর্শন! মেয়েটি আগে স্বাধীনতার প্যারেডে আসেন, তারপর বাবার শেষকৃত্যে

ঠিক এমন ঘটনা ঘটলো তামিলনাড়ুতে। তামিলনাড়ুর দিন্দিগুল এর বড়মাদুরাইতে (News From Bada Madurai In Tamil Nadu, Dindigul ) বাস করেন এক মহিলা পুলিশ অফিসার। ওই পুলিশের নাম এম মাহেশ্বরী। তিনি স্বাধীনতা দিবসের দিন দুর্দান্ত দেশ প্রেমের নিদর্শন দেখালেন (M Maheswari Truly Loves Mother India)। মূলত যারা দেশকে সত্তিকারের ভালবেসে শুধুমাত্র তারাই এরকম কঠিন কাজ করতে পারে। তাঁর এই কঠোর মনোভাব দেখে সবাই তাকে শ্রদ্ধা না করে আর পারেননি।

তো চলুন দেখে নেই আসলে তিনি কী করেছিলেন (What Actually Did Officer M Maheswari From Tamil Nadu) ? স্বাধীনতা দিবসের দিন তার বাবার শেষকৃত্যের কাজ ছিল। কিন্তু তিনি প্রথমে স্বাধীনতা দিবসের প্যারেড এ যোগ দেন। সুতরাং বুঝা যাচ্ছে যে এই সিদ্ধান্তটি নেওয়া কতটা কঠিন ছিল তার পক্ষে।

জানা গিয়েছে যে, মাহেশ্বরীর বাবার নাম নারায়ণস্বামী (Narayanswami, father of Officer Maheswari)। আক্তার বাবার বয়স হয়ে গিয়েছিল ৮৩ বছর। বয়সের ভারে তিনি অনেকগুলো রোগে কষ্ট পাচ্ছিলেন। এবার স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন অর্থাৎ ১৪ আগস্ট তার মৃত্যু হয়। আর তোর বাবার মৃত্যু সংবাদ মেয়েকে জানানো হয়। স্বাভাবিকভাবেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তার পুরো পৃথিবী যেন শূন্য হয়ে যায়। তিনি চাইছিলেন তার বাবাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে হালকা হতে। কিন্তু সেই সুযোগ আর পাননি।

তার কারণ হলো যে, তিনি একজন পুলিশ আধিকারিক। আর তাই দেশের কাজে তার অনেক কিছুকেই বিসর্জন দিতে হয় ক্রমাগত। পূর্বে নির্ধারিত ছিল যে তিনি তিরুনেলভেলিতে (Tirunelveli) স্বাধীনতা দিবসের প্যারেড এ যোগদান করবেন। তিনি তার কথা রেখেছেন।

কিন্তু ঘটনাটির এখানেই কিন্তু শেষ নয়। প্রথমত তিনি দেশের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৫ আগস্ট পুরো অনুষ্ঠানটি হওয়া পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন। আর তামিলনাড়ুর ভিভিসি মাঠে উপস্থিত ছিলেন কালেক্টর শিল্পা প্রভাকর সতীশ এবং পুলিশ সুপার এম মনিভান্নান (Collector Shilpa Prabhakar Satish And PS M Manivannan Are Present In Tamil Nadu VVC Ground )।

তাদের সম্মুখে তিনি গার্ড অফ অনার এর কুচকাওয়াজে (Maheswari Participates In The Guard Of Honor Parade) যোগ দেন। অবশ্য অনুষ্ঠান সমাপ্ত হতে না হতেই তিনি বাড়িতে চলে আসেন। আর তারপরই বাবার সৎকার করা হয়। তার সুদৃঢ় ও মনোভাব আর দায়িত্ব জ্ঞান দেখে সবাই তাকে শ্রদ্ধা না করে আর পারছেন না। সবাই তাকে স্যালুট জানিয়েছেন।