“পুলিশকে বিশ্বাস করে লাভ নেই”, সুশান্তর মৃত্যু কেসে বললেন তনুশ্রী দত্ত

খ্যাতনামা অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত পোলেন হাতেগোনা কয়েকজন তারকাদের মধ্যে একজন যিনি এক দশক আগে বলিউডকে বিদায় জানিয়ে এসেছেন। কিন্তু এই অভিনেত্রী নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে মিটু আন্দোলন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন। এবারে তিনি সুশান্ত সিং রাজপুতের অকাল মৃত্যু বিষয়ে মুখ খুললেন। কেন মুম্বাই পুলিশকে এই তদন্তের ব্যাপারে বিশ্বাস করা যায় না সে ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিলেন তিনি।

তিনি ইনস্টাগ্রামে লাইভে আসেন। এরপর একটি ভিডিওতে বলেন,” মুম্বাই পুলিশের কাছ থেকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত আশা করা যায় না।”চলুন আমরা প্রত্যেকে দেখে নেই তিনি প্রকৃতপক্ষে কি বোঝাতে চাইছেন এই ভিডিওতে।

তিনি আরো বলেন,”তারা খুব শীঘ্রই এসব ঘটনাগুলিকে ডিসমিস করে দেয়। তাছাড়া এরা দোষীদের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে ব্যাপারগুলোকে ধামাচাপা দিয়ে দেয়। রাজনৈতিক লোকেরা শুরু থেকেই ব্যাপারটা ধুয়ে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করে। এখন বিভিন্ন লোককে ডেকে ডেকে জেলা করার ব্যাপারটি হলো মূলত লোক দেখানো। এর প্রধান কারণ হলো এই ব্যাপারটি লোকের অন্যতম আগ্রহের বিষয় এখন।”

“এই মুহূর্তে এই তদন্তভার এর কার্যক্রমে সিবিআই কে হাত লাগানো উচিত। কারন তারাই একমাত্র খুঁজে বের করতে পারবে ভিতরে ভিতরে কোন কিছু ঘটেছে কিনা। এই পুরো ঘটনাটির পেছনে একটা বড় গ্যাং রয়েছে । আর এটা শুধুমাত্র একটা লোকের দ্বারা কিংবা একটা পার্টিতেই ঘটেনি। তারা শুধুমাত্র লোকদের ইমোশন নিয়ে খেলে যায়। আর ততদিন পর্যন্ত চালিয়ে দেয়া যায় যতদিন না তারা ব্যাপারটাকে নিয়ে আর কথা না তোলে।”

তিনি তার নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করলেন যা বলিউডে থাকাকালীন তাঁর সঙ্গে ঘটেছে। তিনি উল্লেখ করলেন, “আমার নিজের ক্ষেত্রেও তারা ভান করেছিল যে তদন্ত চলছে। একদিন দুদিন নয় মাসের পর মাস। আমি এফআইআর করতে গিয়ে প্রচুর সময় এবং সব থেকে নষ্ট করে দিয়েছি। কারণ এগুলো দেওয়ার সময় আমাকে অনেকগুলো এভিডেন্স, লোকজনের মতামত, ভিডিও ফুটেজ, আশেপাশের লোকজন কিছু দেখেছে কিনা সেগুলো জোগাড় করতে হয়েছিল। কিন্তু শেষমেশ, তারা এই সাক্ষ্য-প্রমাণ গুলোকে কোন গুরুত্বই দিল না।”

“কারণ নানার আইনজীবী এবং সাপোর্টাররা চুপ থাকার জন্য বড় সাক্ষীকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছিল। তারা কোন প্রকার কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইলো না। তারা সেখানেই থেমে গেল পুরো তদন্ত থেকে। আমি বেরিয়ে এসেছে বেঁচে গেছি। আমি যদি একই জায়গায় থেমে যেতাম তাহলে একটা সময় আমাকেও চলে যেতে হত। আমি জানিনা কি ঘটতো। একটা দূষিত জায়গায় ক্রমাগত চলাফেরা করলে তার বাতাস গায়ে এসে লাগবেই। এটা মর্মান্তিক যে সুশান্ত তা থেকে বেরিয়ে আসতে পারল না।”