কুড়ি হাজার টাকা ভাড়া নিয়েও রোগীর প্রাণ বাঁচাতে পারলো না ভেন্টিলেশন অ্যাম্বুলেন্স

রোগী বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জলের মতো টাকা খরচ হচ্ছে চিকিৎসার পেছনে। দিন দিন হুহু করে বাড়তেই থাকছে খরচ। অবশেষে আত্মীয়রা সিদ্ধান্ত নিল রোগীকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করার। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই যথাযথভাবেই সব ব্যবস্থা করা হয়েছিল স্থানান্তরের। স্থানান্তরের সময় হঠাৎ মাঝপথে বিগড়ে যায় অ্যাম্বুলেন্স। অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় ভোগা রোগীর পথেই মৃত্যু হল (365 Reporter Bangla Bamchandaipur News : Ventilation ambulance unable to save the respiratory patient even with 20,000 rupees fare)। বিক্ষোভের পাহাড় ভেঙ্গে পড়ল অ্যাম্বুলেন্সটির উপর। ফলে ভাঙচুর করা হলো অ্যাম্বুলেন্সটি। গত মঙ্গলবারে এইরূপ ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে।

স্বপন দাস। বয়স ৪৫ বছর। বিগত কিছুদিন আগেই হঠাৎ শ্বাসকষ্ট জনিত এবং অন্যান্য কিছু সমস্যা নিয়ে তাকে ভর্তি করা হয় ন্যাশনাল হাইওয়ে-২ এর পার্শ্ববর্তী একটি হাসপাতালে। কিন্তু দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে চিকিৎসার খরচ ফলে আত্মীয়রা সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় যে তাকে রোগীকে অন্য হাসপাতলে স্থানান্তর করার দরকার। ফলে চিকিৎসকদের সাথে পরামর্শ করে সহমতি পেলে সিদ্ধান্ত নেয় বামচাঁদাইপুরের  একটি হাসপাতালে তাকে স্থানান্তর করা হবে (Swapan Das, 45 years old is admitted to a hospital near NH-2 and is wished to transfer in a hospital near Bamchandaipur, West Bengal )।

Kolkata ambulance
কলকাতার এম্বুলেন্স (প্রতীকী ছবি)

শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা তাই স্থানান্তর করার সময় ও অক্সিজেনের প্রয়োজন। এর ফলে একটি ভেন্টিলেটার যুক্ত অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হয়। সামান্য দৈর্ঘ্যের পথ যেতে অ্যাম্বুলেন্সটি কুড়ি হাজার টাকা ভাড়া ধার্য করে বলে জানিয়েছেন তার আত্মীয়রা। আত্মীয়দের থেকে এও জানা যায় প্রথমেই অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যাটারির কিছু সমস্যা হয়েছিল ফলে কিছু সময় ধরে ব্যাটারি পরিবর্তন করে নতুন ব্যাটারি লাগিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল অ্যাম্বুলেন্সটি।

কিন্তু বেশ কিছুদূর যাওয়ার পরে মাঝপথেই হঠাৎ এম্বুলেন্স গাড়ির স্টার্ট বন্ধ হয়ে যায়। তার সাথে সাথে ভেন্টিলেশন কাজ করা বন্ধ করে দেয় বলে দাবি করেছেন তার আত্মীয়রা। ভেন্টিলেশন বন্ধ হওয়া অক্সিজেনের অভাবে মাঝপথেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন স্বপন । মৃত স্বপনের একজন আত্মীয় বলেছেন এই সামান্য দূরত্বের জন্য অ্যাম্বুলেন্সটি কুড়ি হাজার টাকা ভাড়া নিয়েছে আমাদের থেকে কিন্তু তার পরেও এইরূপ ঘটনা। এই রকম চলতে থাকলে সাধারণ মানুষ কি করবে বলে দাবি করেছেন তিনি।

অপরদিকে অ্যাম্বুলেন্সের টেকনিশিয়ান জানিয়েছেন অ্যাম্বুলেন্সটি বন্ধ হয়ে গেলেও ভেন্টিলেশন চালু ছিল। পাশাপাশি গাড়ির ড্রাইভার জানান গাড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তিনি অন্য গাড়ির ব্যবস্থা করার কথাও বলেছিলেন সঙ্গে সঙ্গেই। তাতে নাকি রোগীর আত্মীয়রা রাজি হননি। ড্রাইভার যে গাড়িটি ব্যবস্থা করার কথা বলেছিলেন সেটিতেও নাকি ভেন্টিলেশনে শিফট করার সম্পূর্ণ সুবিধা ছিল।