রোগ প্রতিরোধে অনন্য আমলকি

শুধু ভিটামিন সি-তে পূর্ণ নয়, বহু রোগের অব্যর্থ পথ্য আমলকী। জেনে নিন আমলকীর উপকারিতা (Benefits Of Amalaki)। আমলকীতে প্রায় অধিকাংশ রোগের পথ্য লুকিয়ে রয়েছে। কাঁচা বা রস করে যেকোনো উপায়ে খাওয়া যায়। উপকার পাওয়া যায় সব পদ্ধতিতেই। তবে আমলকী সেদ্ধ করে খেলে ভিটামিন সি-এর গুনাবলী নষ্ট হয়ে যায়।

পেয়ারা, কমলা,লেবু, আপেল এসবের তুলনায় ভিটামিন সি বেশি রয়েছে আমলকিতে (Rich Amounts Of Vitamin C In Amla)। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আমলকী। প্রতিদিন যদি একটি আমলকি খাওয়া যায় তবে অনাক্রমতা অনেকটাই বেড়ে যায়। আমলকীতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভরপুর থাকায় শরীর থেকে টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আমলকী কাঁচা বা রস করে খাওয়াতেই উপকার বেশি। এমনকি আচার বা স্যালাড করে খাওয়া যেতে পারে। তাই খাওয়ার আগে জেনে নিন আমলকির উপকারিতা (Health Tips: Benefits Of Amla)।

★ ব্রঙ্কাইটিস, অ্যাজমা রোগ আমলকী প্রতিরোধ করে।

★ দীর্ঘদিন ধরে ভুগতে থাকা সর্দি, কাশি, গলাব্যথা, জ্বর-এর মতো সমস্যায় পথ্য হিসেবে আমলকী কাজ করে।

★ টিবি রোগের অন্যতম পথ্য হিসেবে কাজ করে আমলকী।

★ আমলকীতে পলিফেনল নামক উপাদান থাকে যা ক্যান্সার কোশের বৃদ্ধি কমায়।

★ নিয়মিত আমলকী খেলে লিভারের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে পেটের সমস্যা, বদহজম ইত্যাদি দূর হয়।

★ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন যেসব ব্যক্তিরা তাদের পক্ষে প্রতিদিন একটি করে আমলকী খুবই উপকারী।

★ আমলকীতে থাকা ফাইবার শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমাতে সাহায্য করে (Presence of Fibres In Amla Helps To Reduce Fat)।

★ যে কোনো রকমের মুখের ইনফেকশন, আলসার বা দাঁত বা মাড়ির যে কোন সমস্যায় আমলকীতে থাকা ভিটামিন সি ভীষণ ভালো কাজ করে।

★ আমলকীতে থাকা ক্রোমিয়াম নামক উপাদানটি শরীরে ইনসুলিন উৎপাদনে সাহায্য করে। যা হাই ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন। সেক্ষেত্রে একজন সুগার রোগী যদি আমলা জুস বা আমলকী কাঁচা চিবিয়ে খান উপকার পাবেন।

★ বয়স্কদের জন্য আমলকী খুব উপকারী। এতে ক্যারোটিন নামক পদার্থ থাকায় দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। চোখের অ্যালার্জী বা চোখ থেকে জল পড়ার মতো সমস্যা রোধ করে।

আরোও পড়ুন, অতিরিক্ত খিদে পেলেও কোন খাবারগুলো খাওয়া মোটেই ঠিক নয় ?

★ চুলের পরিচর্যায় আমলকী খুব উপকারী। স্ক্যাল্পের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে চুল বৃদ্ধি এবং খুশকির সমস্যা দূর করে।

★ আমলকীর রস চুলের গোড়ায় ব্যবহার করলে তাড়াতাড়ি চুল পেকে যাওয়ার মতো সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

★ আমলকীতে অ্যান্টি-এজিং উপাদান রয়েছে যা বহুদিন পর্যন্ত ত্বকের যৌবন ধরে রাখতে সক্ষম।

★ অনেকেই মনে করেন অপারেশনের পর বা কোনো ক্ষত শুকানোর ক্ষেত্রে টক জাতীয় জিনিস ইনফেকশনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। আমলকী ঘা বা ক্ষতের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলে না বরং আমলকি খাওয়ার ফলে ঘা বা ক্ষত তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

★ যাদের সুগার রয়েছে তারা আমলকীর রস জলের সঙ্গে মিশিয়ে অল্প মধু দিয়ে খেতে পারেন। এতে অ্যাসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

ঋতু পরিবর্তনের সময় ঠান্ডা লাগা, সর্দি-কাশি মতো সমস্যা লেগেই থাকে। এখন বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির জেরে ইমিউনিটি বৃদ্ধি করার জন্য খাদ্য তালিকায় রয়েছে আমলকীর মত উপকারী ফল রাখা প্রয়োজন (Eat Amlaki To Improve Your Immunity)। যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করবে।