সকালে উঠে নিজের হাত দেখে ভাগ্য ফেরানোর উপায়

এক নজরে
১. জ্যোতিষীগণ আপনার হাতের রেখা গুলোর পর্যালোচনা করে আপনার ভাগ্যে কি লেখা আছে তা বলে দিতে সক্ষম হন।
২. সুসংবাদ হলো যে, আপনি যদি সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর নিজের হাত নিজেই দেখেন তাহলে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারবেন।
৩. শুধু আপনাকে মেনে চলতে হবে কয়েকটি নিয়ম (Lifestyle Tips : How to change your fortune by watching your hands after wake up in the morning)।

বিস্তারিত
এই বিশাল পৃথিবীর বিভিন্ন কালচারে জ্যোতির্বিজ্ঞান কে বিশেষ গুরুত্বসহকারে দেখা হয় (Astrology has a great importance in many cultures in the world)। আপনারা প্রায় প্রত্যেকেই জানেন যে, ভারতীয়, চীনা এবং মায়া সভ্যতার জনগণ আকাশ দেখে পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলির আসলে ভবিষ্যতে কি হতে পারে তা নিয়ে প্রচুর অধ্যায়ন করেছিলেন। আর তারা এই ব্যাপারে সত্যি সত্যি ভবিষ্যৎবাণী করতো এবং তা অনেক ক্ষেত্রে মিলেও যেত।

এমনকি পশ্চিমা দেশগুলোতে জ্যোতিষশাস্ত্রের সাহায্যে একজন ব্যক্তির আচরণ এবং চরিত্র কেমন হবে তা দেখা হয়। মূলত জ্যোতিষীগণ ঐ ব্যক্তির জন্ম নক্ষত্র অর্থাৎ তার জন্মকালীন সময় সূর্য, চন্দ্র এবং অন্যান্য যে সমস্ত জ্যোতিষ্ক রয়েছে সেগুলোর অবস্থান কিরূপ ছিল তা পর্যালোচনা করা হয়। আর এভাবেই তার ভাগ্যে কি লেখা আছে সেগুলো অনুমান করা হয়। এই শাস্ত্র টি বহুকাল ধরে চলে আসছে এবং অনেক সভ্যতার মানুষ একে ক্রমাগত অনুশীলনের মাধ্যমে অনেক উন্নতি সাধন করেছে‌। তো চলুন আমরা আজকের টপিকটিতে ফিরে যাই।

জ্যোতিষ শাস্ত্রের ভেতর একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো শুধুমাত্র হাতের রেখা দেখে তার ভাগ্যে কি আছে তা অনুমান করা। আর এই কাজটি হস্ত বিশারদরা অহরহ করে থাকেন। তাদের কথা থেকেই জানা গেল যে, সকালে জেগে ওঠার পর শুরুতেই আপনার হাত যদি আপনি একবার দেখে নেন তাহলে আপনি নিজের ভাগ্য ফেরানোর উপায় পেয়ে যাবেন। এবার আপনাদের যদি প্রশ্ন করা হয় যে সকাল বেলায় ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর বন্ধ চোখ খুলে আপনি কি করেন ? তাহলে অধিকাংশের থেকেই আনসার পাওয়া যাবে মোবাইলে চোখ রাখেন। তবে জ্যোতিষী কোন বললেন, চোখ খুলে আপনার নিজের হাতের দিকে একবার পর্যবেক্ষণ করা উচিত (haater talu dekhe bhagya feranor upay)।

আর এই কাজটি করলে আপনার ভাগ্য হয়তো ম্যাজিকের মত পাল্টে যাবে। তো আপনাকে আসলে কি করতে হবে ? ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর আপনার হাতের দুই তালুর দিকে তাকিয়ে নমস্কার করুন। আর শাস্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী, হাতের উপরিভাগে মা লক্ষ্মী, মধ্যস্থলে মা সরস্বতী এবং নিম্নের অংশে ভগবান বিষ্ণুর অবস্থান। হলে আপনি ঘুম থেকে উঠেই হাতের তালুর দিকে তাকিয়ে নমস্কার করলে মা লক্ষী, মা সরস্বতী এবং ভগবান বিষ্ণু কে নমস্কার করছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আপনি খুব ভালোভাবে আপনার দিনটি আরম্ভ করছেন। আর এই কারনেই জ্যোতিষী কোন উন্নয়নও সমস্ত কাজ করার পূর্বে নিজের হাত দেখে নমস্কার করে সেই দিনটির শুভারম্ভ করার উপদেশ দেন।

এরপর রয়েছে আরও একটি তথ্য। গরুকে খাবার দেওয়া অত্যন্ত শুভ কাজ। হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে, গরু অত্যন্ত পবিত্রতার প্রতীক। অপরদিকে গাভী হল ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বাহন। ফলে আপনি যদি গরুকে খাবার দেন তাহলে সব দেবতা সন্তুষ্ট থাকবেন আপনার উপর এবং তাদের কৃপা আপনার উপর সবসময় থাকবে। ফলে আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে গরুকে খাবার দেওয়া অত্যন্ত শুভ কাজ। এরপর আরও একটি পরামর্শ মেনে চলতে বলেছেন জ্যোতিষীগণ।

যে কোন প্রকার শুভ কাজ শুরু করার আগে অথবা বাইরে কোথাও ভ্রমন করার আগে আপনার বয়স জ্যেষ্ঠদের প্রণাম করবেন। আর এরপর বাড়ি থেকে যাত্রা করা উচিত। এতে করে আপনার গুরুজনদের আশীর্বাদ আপনার উপর বর্ষিত হবে। আর এর ফলস্বরূপ আপনার রাশির বিরুদ্ধে যে সমস্ত গ্রহ রয়েছে সেগুলি আপনার রাশি অনুকূলে চলে আসার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে এবং এর ফলে আপনি শুভ ফল লাভ করবেন। ফলে আপনি কোন কাজ শুরু করার আগে কিংবা বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে গুরুজনদের প্রণাম করে বেরোনো দরকার।

ভাগ্য ফেরানোর শেষ আরেকটি উপায়:
আপনি যদি সত্যিই আপনার ভাগ্য উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে চান তাহলে প্রথমে বাজার থেকে ময়দা কিনে আনুন। এরপর সেই ময়দা দিয়ে লেচি তৈরি করুন। পরবর্তীকালে সেই মেয়েটির মধ্যে চিনি মিশ্রিত করুন। এবার সেই লেচিগুলো থেকে ছোট ছোট গুলি প্রস্তুত করুন। আর সে গুলোকে পিঁপড়ের উদ্দেশ্যে অর্পণ করুন। ধারণা করা হয় যে, এই কার্য করলে আপনার অতীতের সমস্ত পাপের মুক্তি ঘটা সম্ভব।