ওষুধ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করবেন কি করে? জেনে নিন

উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের মতো সমস্যা বর্তমানে খুবই সাধারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী দেখা গেছে, ভারতবর্ষে প্রতি বছর ২ লক্ষ ৬০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় উচ্চ রক্তচাপ জনিত সমস্যার জন্য‌। দেশের প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে তিনজনের একজন উচ্চ রক্তচাপ জনিত সমস্যায় ভোগেন। উচ্চ রক্তচাপ জনিত সমস্যার কারণ গুলি হল অনিয়মিত ডায়েট, অতিরিক্ত ওজন, মানসিক চাপ এবং শরীরচর্চার অভাব। চিকিৎসকদের মতে জীবনযাত্রা এবং খাদ্যতালিকায় সামান্য পরিবর্তন আনতে পারলে ওষুধ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। জেনে নিন খাদ্যতালিকায় কোন কোন খাদ্য উপাদান রাখলে মুক্তি পেতে পারেন এই সমস্যা থেকে (Health Tips : how to control blood pressure ?)।

নুনের পরিমাণ কমানো: প্রথমে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের সমস্যা থাকলে খাবারে নুনের পরিমাণ কমাতে হবে। কারণ নুন শরীরের সোডিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট করে। ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। সোডিয়ামের গোলযোগ হলে কিডনির সমস্যা হতে পারে। তাই কাঁচা নুন খাওয়া বন্ধ করতে হবে। এবং সম্ভব হলে রান্নাতেও কম নুন ব্যবহার করতে হবে।

কলা: কলাতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম রয়েছে। তাই প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় একটি করে কলা রাখার চেষ্টা করুন। পটাশিয়াম শরীরে রক্তচাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে মধু অত্যন্ত কার্যকরী। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে এক কাপ জলে এক চামচ মধুর সঙ্গে আট থেকে দশ ফোঁটা অ্যাপেল সিডার ভিনিগার মিশিয়ে খেতে পারলে উচ্চরক্তচাপের মত সমস্যার সমাধান হয়।

কমলালেবু ও ডাবের জল: কমলালেবুর রসের সঙ্গে ডাবের জল মিশিয়ে দিনে দু-তিনবার খেতে পারলে রক্তচাপের মতো সমস্যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।

সবুজ শাকসবজি: যারা উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনে ভুগছেন তাদের অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলাই ভাল। মশলাযুক্ত খাবার না খেয়ে খাদ্যতালিকায় শাকসবজি বাড়াতে পারেন। ফলে শরীরের ক্যালরি মাত্রা নিয়ন্ত্রণ থাকবে। সবুজ শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ফোলেট রয়েছে। যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে।

ওটস্: ওজন কমানোর ক্ষেত্রে এবং কম ক্যালরিযুক্ত খাবার হিসেবে ওটসের কোন বিকল্প নেই। তাই সকালে ওটস্ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন পুষ্টি বিশেষজ্ঞ‌‌রা। তাছাড়া ওটস্ উচ্চ ফাইবারযুক্ত এবং এতে সোডিয়াম থাকায় রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

তরমুজ: রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তরমুজের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তরমুজে রয়েছে ভিটামিন এ, লাইকোপিন, পটাশিয়াম এবং ফাইবার। এছাড়া অ্যামাইনো অ্যাসিড এল-সিট্রুলিন সমৃদ্ধ হ‌ওয়ায় তরমুজে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও শরীরের নানা সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে।

এই উপরিউক্ত খাবারগুলি খাদ্য তালিকায় যোগ করে সুস্থ থাকতে পারেন। কোনো ওষুধ ছাড়াই নিয়ন্ত্রণে থাকবে রক্তচাপ। এর পাশাপাশি যদি কারোর ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা থাকে। তিনি চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ নিয়ে তবেই এই উপকরণ গুলি খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন।