জঙ্গলমহলে এ কি খেল দেখালেন মমতা দিদি!

প্রত্যেকে এ খবর সম্পর্কে জ্ঞাত যে দীর্ঘকাল যাবৎ জেলে থাকার পর গত ফেব্রুয়ারি মাসে নিজের পাড়ায় এসেছেন ছত্রধর মাহাতো Chhatradhar Mahato. আর ঠিক তখনই লোকজনের বুঝতে একটু অসুবিধা হয়নি যে তিনি পাড়ায় ছিলেন না ঠিকই কিন্তু তিনি এখনও দাবার ঘোড়া। এখনো এলাকার সাধারণ মানুষ তার কথায় বিশ্বাস করে। তবে এখন জঙ্গলমহলে তৃণমূলের খুব করুণ পরিস্থিতি।তবে এই অবস্থাতেও তুরুপের তাস হওয়া অসম্ভব নয় ছত্রধর মাহাতোর পক্ষে। আর ঘটলোও তাই।

মাওবাদী নেতা সন্দেহ করে দীর্ঘকাল যাবৎ জেলে বন্দী ছিলেন ছত্রধর মাহাতো। এবার ফেব্রুয়ারি মাসে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন। তো এখন বৃহস্পতিবার এ মমতা ব্যানার্জি তাকে তৃণমূলের রাজ্য কমিটির সদস্য পদ দিলেন। আর এই অবস্থানে আসতে গেলে অত্যান্ত বিশ্বাসভাজন নেতা হতে হয়। আর এরূপ গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় মমতা ব্যানার্জির Mamata Banerjee, ছত্রধর কে জায়গা দেওয়ার কারণ তার বিশ্বাসযোগ্যতা।

এ প্রসঙ্গে একটা কথা না বললেই নয়। 2011 সালে সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের ঘটে যাওয়া বিপ্লবের পরিণামে তৃণমূল সরকার তাদের ভিত্তি প্রস্তুত করে। অপরদিকে 34 বছর ব্যাপী রাজত্ব করা সিপিএমের কমরেড দল তাদের অবশিষ্ট কবর খুঁড়ে ছিল জঙ্গলমহলে। প্রকৃতপক্ষে অত্যন্ত চুপিসারে বিপ্লব এর সূত্রপাত ঘটিয়ে তৃণমূল জঙ্গল মহলে তীব্র প্রতিযোগিতার সামনে ফেলে দিয়েছিল তখনকার বাম সরকারকে।

প্রায় 11 বছর যাবৎ জেলে বন্দী ছিলেন ছত্রধর। ফেব্রুয়ারি মাসে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফেরেন ছত্রধর মাহাতো। আবার স্বাদ পেলেন সেই চিরচেনা লালগড়ের মাটির। প্রকৃতপক্ষে এই লালগড় এই তার নায়কোচিত নেতৃত্বে সম্মুখে ধসে পড়েছিল তৎকালীন শাসক সিপিএমের ঘরবাড়ি। এক দশক পরবর্তীকালে সেই বিপ্লবের আঁতুড়ঘরে পুনরায় এসে রাজনীতির প্রকৃত জোয়ারে প্রবেশ করেছিলেন তিনি।

সেদিন এক বিশ্বস্ত সূত্র ছত্রধর কে প্রশ্ন করে, আপনার এলাকাতে তো বিজেপি দাপিয়ে রাজত্ব করছে। তো এই ব্যাপারটিকে আপনি কীভাবে সামলাবেন? ছত্রধর এই কথাটির উত্তর খুব ডিপ্লোম্যাটিক ভাবে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “লোকসভা নির্বাচন থেকে দেখা গেল তৃণমূল কংগ্রেস এই এলাকায় একটা খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আরে কথাটা আমিও মেনে নিচ্ছি। কিন্তু আজকে সমর্থকরা তথা এলাকাবাসীরা যে পরিমান ভালোবাসা দেখিয়েছে তাতে আমার মনে হয় এই পিছিয়ে পড়া উঠতে বেশি সময় লাগবে না।”

সেই মুহূর্তেই এই কথাটা পরিষ্কার হয়ে গেল যে জঙ্গলমহলে তিনি প্রকৃতপক্ষে ঘাসফুল শিবিরের সেনাপতি। তবে তৃণমূলে যোগদান না করেও কীভাবে তিনি তৃণমূলের অনুষ্ঠানে চলে এলেন?

তিনি তখন খোলাখুলিভাবেই বলেন,”তৃণমূলকে মন থেকে ভালোবেসে অনেক সমর্থকরা এই দলে ফিরছেন। তৃণমূলের ব্লক সভাপতি কে সামনে রেখেই তারা যোগদান করছেন। আমি এখানকার বিশেষ একজন অতিথি। আমি এখনো পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের কেউই নই, আবার কেউ একজন। মোটকথা আমি সাধারণ জনগণের প্রতিনিধি।”

মমতা ব্যানার্জি জঙ্গলমহলে তলানিতে চলে যাওয়া তৃণমূলকে পুনরায় জাগ্রত করতে সেই মানুষের তথা ‘সাধারণ জনগণের প্রতিনিধি’কে নিয়ে এলেন। এত বছর পর আবার কি ছত্রধর ম্যাজিক কাজে লাগবে আদৌ? এর উত্তর সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে আর মাত্র কয়েকটা মাস পরেই। তবে একথা সত্যি যে একুশের লড়াইয়ের জন্য সবকিছু রেডি করে ফেলল তৃণমূল। আর জঙ্গলমহলে মানতেই হবে এটা মমতা দিদির একটা বিশাল খেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.