সরস্বতীর আশীর্বাদে বাঙালি ঐতিহ্যের আলোকচিত্র
সরস্বতীর আশীর্বাদে বাঙালি ঐতিহ্যের আলোকচিত্র
ঋদ্ধি ভট্টাচার্য, কলকাতা:- বিদ্যা, সুর ও সৃজনশীলতার দেবী সরস্বতীর অনুপ্রেরণায় এক অনন্য আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে এই বিশেষ ফটোশুটে মডেলরা ধারণ করেছেন সরস্বতী থিমের নান্দনিক রূপ। শুভ্র বসন, বীণা, পুস্তক ও শান্ত সৌন্দর্যের মাধ্যমে ফুটে উঠেছেল জ্ঞান ও সংস্কৃতির আবহ। শিল্পীসত্তা ও কল্পনার মিশেলে এই ফটোশুট দর্শকদের সামনে তুলে ধরছে বাঙালির চিরন্তন ঐতিহ্য ও উৎসবের আবেশ। সম্প্রীতি অনুষ্মিতা ক্রিশন -এর কর্ণধার সুস্মিতা রায়, অনু মৌলিক ও সুতপা সাহা -এর তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দেবী সরস্বতীর থিমের ওপর এমন একটি শুট।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জয়ন্ত দাশগুপ্ত। মডেলদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন টিনা পাত্র, সাবনাম সুলতানা, পৌলমী মিত্র, অনু মৌলিক, পেখম কয়াল, সায়ন্তী মাইতি, অনিন্দিতা রায়চৌধুরী, রিপ্তা দে, সুস্মিতা রায়, সুতপা সাহা ও স্বর্ণালী কুন্ডু(পুরুষ থেকে সাজের দ্বারা দেবী রূপে রূপান্তরিত)। প্রসাধনী শিল্পীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অমৃতা চৌহান, সন্টিক নস্কর, রিতা দাস , টুম্পা ঘোষ, তাপসী বিশ্বাস, অর্পিতা পাল, বাবলি পাল, মৌমিতা দত্তগুপ্ত, নিশু শাও ও দিপ দত্ত।
আলোকচিত্রকার -এর ভূমিকা পালন করে রাজ চক্রবর্তী। সব মিলিয়ে, এই আলোকচিত্র প্রদর্শনী কেবল চোখের আরাম নয়—এ এক গভীর অনুভব। সরস্বতীর আশীর্বাদে জ্ঞান, শিল্প ও সৌন্দর্যের যে মেলবন্ধন বাঙালির রক্তে বহমান, তা প্রতিটি ফ্রেমে নীরবে কথা বলে। শুভ্রতার শান্ত আবরণে মোড়া মুখগুলো যেন আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় শিকড়ের কাছে, যেখানে উৎসব মানে কেবল আয়োজন নয়, অনুভূতির অনুরণন।
আধুনিকতার ছোঁয়ায় গড়ে ওঠা এই সৃজনশীল প্রয়াস স্মরণ করিয়ে দেয়—ঐতিহ্য কখনও পুরনো হয় না, বরং প্রতিটি নতুন প্রজন্মের কল্পনায় তা নতুন করে জন্ম নেয়। এই প্রদর্শনী দর্শকের মনে জাগিয়ে তোলে গর্ব, আবেগ ও আত্মপরিচয়ের এক অপূর্ব অনুভূতি, যা দীর্ঘদিন হৃদয়ে রয়ে যাবে।
