কিভাবে ভূত চতুর্দশী পালন করবেন, এর মাহাত্ম্য কি? (Bhoot Chaturdashi 2022)

এই পোষ্টে ভূত চতুর্দশীর মাহাত্ম্য কি, ভূত চতুর্দশী পালনের নিয়ম এবং এই বছর কোন দিন, কোন সময়ে ভূত চতুর্দশীর ডেট তা বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে। আপনারা প্রায় সকলেই জানেন যে কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে মা কালী পূজা করা হয়। আর কালী পূজার আগের রাত্রে পালন করা হয় ভূত চতুর্দশী। এই স্পেশাল দিনটি ছোট দিপাবলী, নরক চতুর্দশী, যম চতুর্দশী, রূপ চতুর্দশী বা রূপ চৌদাস নামেও পরিচিত। আর এটা মূলত বাঙালিদের উৎসব। হিন্দু শাস্ত্র মতে, এই বিশেষ দিনে নাকি স্বর্গ এবং নরকের দরজা কিছুক্ষণের জন্য খুলে যায় এবং অশরীর প্রেতাত্মারা বাড়ির চারপাশে ঘুরে বেড়ায়। আর তাদের হাত থেকে বাঁচার জন্যই পালন করা হয় ভূত চতুর্দশী। (Bhoot Chaturdashi 2022 date and time, significance, mantra)

ভূত চতুর্দশী 2022 তারিখ ও সময় (Bhut Chaturdoshi 2022 Date and Time)?
হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, এই বছর কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথি 23 শে অক্টোবর সন্ধ্যে ছটা চার মিনিট থেকে শুরু হবে ভূত চতুর্দশী। আর এটি চলবে ২৪ শে অক্টোবর বিকেল পাঁচটা ২৮ মিনিট পর্যন্ত। অন্যদিকে উদয় তৃতীয় অনুযায়ী নরক চতুর্দশী পালিত হবে আগামী ২৪ শে অক্টোবর।

ভূত চতুর্দশী পালনের নিয়ম:
এই বিশেষ দিনে অশরীরী প্রেতাত্মাদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বাড়িতে মোট ১৪ টি প্রদীপ জালানো হয়। তবে আর একটা কথা আপনাদেরকে মনে রাখতে হবে, এই বিশেষ দিনে মাটির প্রদীপের পরিবর্তে ময়দা তৈরি প্রদীপ ব্যবহার করলে তা আপনাদের জন্য শুভ হবে। এরপর এই ময়দার তৈরি প্রদীপে তাতে সরষের তেল এবং সুতুলি দিতে হয়। এরপর এই প্রদীপটি পুরো বাড়ি ধরে ঘোরাবেন এবং বাড়ির বাইরের কোন একটা স্থানে রেখে দিন। তবে কোন অবস্থাতেই কিন্তু ওই প্রদীপটি অন্যর বাড়িতে রাখবেন না। বিশেষজ্ঞরা হিন্দুদের এই উৎসবকে বিদেশি হ্যালুইন উৎসবের সাথে তুলনা করছেন। হ্যালূইন এর উৎসবে মূলত বিশাল আকৃতির কুমড়োর ভেতর চোখমুখ এঁকে মোমবাতি জ্বালানো হয়। তো বিদেশীরাও মূলত প্রেতাত্মাদেরকে খুশি করতে এই হ্যালূইন উৎসব পালন করে থাকেন। (Bhoot Chaturdashi paloner niyom)

ভূত চতুর্দশীর পূজা পদ্ধতি (Bhoot Chaturdashi Puja 2022):
আপনি যদি পুজো করার জন্য মনস্থির করেন তাহলে সূর্য ওঠার আগে স্নান করে নিন এবং সারাদিন উপবাস করুন। এরপর সন্ধ্যার সময় ওই ময়দা দিয়ে তৈরি প্রদীপ জ্বালাবেন এবং কিভাবে কি করবেন তা আমি সম্পূর্ণ পুরোই বলেছি। তো এরপর অমাবস্যার এই চতুর্দশীর রাত্রি শেষে চাঁদ উঠার সময় এই বিশেষ শ্লোক জপ করলে তা শুভ হবে আপনার এবং আপনার পরিবারের জন্য। “যমলোকদর্শনভাবকমোহমাভ্যাঙ্কসনাম করিষ্যে।” (Bhoot Chaturdashi Mantra)

ভূত চতুর্দশী পালনের মাহাত্ম্য:
পূরাণে বলার আছে, এই বিশেষ দিনে স্বর্গ ও নরকের দরজা কিছুক্ষণের জন্য খুলে যায়। স্বাভাবিকভাবেই প্রেতাত্মারা মাটিতে নেমে আসেন। আর তারা এই বিশেষ প্রদীপের আলো দেখলে খুব খুশি হন। এমনকি লোকজন বলে থাকেন এই প্রদীপ জ্বালিয়ে অশুভ শক্তির হাত থেকে রক্ষা, অকাল মৃত্যু থেকে পরিত্রাণ এবং যম তাড়ানো হয়।

ভূত চতুর্দশী তে 14 রকমের শাক খাওয়ার গুরুত্ব:
এই ১৪ ধরনের শাকের মধ্যে রয়েছে সজনে, পলতা, সর্ষে, গুলঞ্চ, ভাটপাতা, শুলফা, হেলেঞ্চা, ওল, বেথুয়া, কালকাসুন্দি, শুশনি, জয়ন্তী, নিম ও নটে। পূরাণের মতে ১৪ ধরনের শাক খেলে চৌদ্দ পুরুষেরা তুষ্ট হন। অন্যদিকে বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই সময়ে রিতু পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন ধরনের অসুখ-বিসুখ হয়ে থাকে মানুষের। আর সেই কারণে ১৪ ধরনের শাক খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অটোমেটিক বেড়ে যায়।