প্রতিদিন রাত জেগে সিনেমা-সিরিজ দেখছেন? জানুন ভয়ানক ফলাফল

বর্তমান প্রজন্মের অধিকাংশ মানুষেরই রাত জাগার অভ্যাস রয়েছে। প্রয়োজনীয় কাজে অথবা শুধুমাত্র অভ্যেসের বশেই অনেকের মধ্যেই রাত জাগার প্রবণতা দেখা যায়। ইয়াং জেনারেশনের মধ্যে রাত জেগে মোবাইল বা ল্যাপটপে সময় কাটানো, টিভি বা সিরিজ, সিনেমা দেখার মত বিনোদন ভয়ঙ্কর বিপদ ডেকে আনতে পারে। বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে প্রত্যহ রাত জাগার মত অভ্যাস শরীরকে ভেতর থেকে নষ্ট করতে সাহায্য করে। বিভিন্ন রোগ শরীরে বাসা বেঁধে বসে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। তাই রাত জাগলে কি কি ধরনের ক্ষতি হতে পারে, জেনে নিন এক ঝলকে (Bad effects of late night on health)।

উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধি: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, টানা দু-তিন দিন ঠিক করে না ঘুমালে শরীরের মধ্যে বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। যার ফলে শরীরে রক্তচাপ বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করে‌। টানা না ঘুমানো বা দেরি করে ঘুমানোর অভ্যাস উচ্চ রক্তচাপকে সবসময়ের সঙ্গী করে দিতে পারে (Late night may cause high blood pressure)।

ওজন বৃদ্ধি: ২০১৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে না ঘুমোলে বা রাত করে ঘুমোতে গেলে ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার মতো সমস্যা দেখা যায়। দিনে কমপক্ষে ছয় থেকে সাত ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন। সঠিকভাবে ঘুম না হলে খাবার হজম হয় না। তার ফলে যে কোন খাদ্য উপাদান শরীরে সঠিক পুষ্টির পরিমাণ দিতে পারেনা এবং খিদে বৃদ্ধি করে। তার ফলে অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে ওজন বৃদ্ধি হয়। ওজন বৃদ্ধির সাথে সাথেই শরীরে বাসা বাঁধে ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ এবং হার্টের রোগের মত নানা রকম অসুখ। তাই সুস্থতা বজায় রাখার জন্য রাত না জাগাই উচিত।

মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া: মানুষের ঘুম মস্তিষ্কের খাদ‍্য। সারাদিন ধরে চোখের সামনে নানা ঘটে যাওয়া ঘটনা ঘুমের সময় মস্তিষ্কে স্মৃতি শক্তি হিসেবে থেকে যায়। তাই সঠিকভাবে ঘুম না হলে স্মৃতি শক্তির ওপর প্রবল ভাবে প্রভাব ফেলে এবং মনোযোগ কমে যাওয়ার মত ঘটনা দেখা দেয় (The efficiency of may drops down due to lack of sleep)।

আয়ু কমে যাওয়া: দশ হাজার ব্রিটিশ ছাত্রের ওপর গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে ব্যক্তির ৫ ঘণ্টা বা তার কম সময়ে ঘুমোন। তাদের আয়ু কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা যায়। ঘুমের জন‍্য হার্ট এবং মস্তিষ্কের সুস্থতা নির্ভর করে। সেক্ষেত্রে ঘুম ঠিক না হলে দুটো অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা যায়। এর ফলে আয়ু কমে যাওয়ার মতো সমস্যা খুবই স্বাভাবিক।

মানসিক অবসাদ: ২০০৫ সালের বেশ কিছু গবেষণায় দেখা যায়। দিনের পর দিন পর্যাপ্ত পরিমাণে না ঘুমোলে শরীরের মধ্যে ফিল গুড হরমোন ক্ষরণ কমে যেতে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই ডিপ্রেশন এবং অ্যাংজাইটি একজন মানুষকে ঘিরে ধরে। তাই সুস্থ এবং স্বাভাবিক মানসিক পরিস্থিতি লাভের জন্য ঘুম খুব‌ই প্রয়োজনীয় (Late night may cause mental exhaustion)।

সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যাওয়া: মাসের-পর-মাস ঠিকমতো ঘুম না হলে শরীরের সাথে মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এর ফলে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে আসে। দ্রুত চিন্তা করা বা হঠাৎ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে ব্যাহত হয়।

হার্টের সমস‍্যা: কম ঘুমানো ব্যক্তি হার্টের গতি কমে যাওয়া বা ইরেগুলার হার্টবিট এর মতো একাধিক সমস্যা দেখা যায়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে ঘুমের সঙ্গে হার্টের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। সেই কারণেই চিকিৎসকরা সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানোর নিদান দিয়ে থাকেন। শরীরের সম্পূর্ণ বিশ্রামে হার্ট সুস্থ থাকে। সেক্ষেত্রে ঘুম ঠিকমতো নাহলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ঘুমের সময় ঠিকমতো নাহলে হার্ট ফেলিওর বা ইরেগুলার হার্টবিট সহ নানা হার্টের রোগের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায় (Heart problem may occur due to poor sleep.)।

চোখের ক্ষতি: রাত জেগে পড়া বা মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিনে চোখ রাখা সিনেমা সিরিজ দেখা। শরীরের পাশাপাশি চোখের ক্ষতি করে।

এছাড়াও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, হঠাৎ করে কোনো বিষয় ভুলে যাওয়া, শরীরে টিউমারের মতো সমস্যা দেখা দিয়ে পারে অপর্যাপ্ত ঘুম। তাই শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার জন‍্য ঘুম প্রয়োজন।