হারানো গৌরব ফেরাতে বামেদের নয়া স্ট্র‍্যাটেজি নিয়ে মুখ খুললেন গৌতম দেব

গত লোকসভা নির্বাচনে ভাগ্যের শিকে ছেঁড়েনি বামেদের। উল্টে প্রাপ্ত ভোটের পরিমাণ কমে সাত শতাংশ এসে দাঁড়িয়েছে। ১৮ টি আসনে জয়লাভ করে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বিজেপির নাম। “বামের ভোট রামে যাওয়া” এই বিষয়টি রাজনীতিতে খুব চর্চিত হয়েছিল। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়া আটকাতে জোর কদমে প্রস্তুত হচ্ছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট (CPIM eyes on 2021 Bidhan Sabha election)।

মঙ্গলবার এ বিষয়ে মুখ খোলেন সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা গৌতম দেব। উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার তরফে ফেসবুক লাইভে আলোচনা‌য় তিনি বলেন, বামপন্থীদের মানুষ যথেষ্ট ভালোবাসা দিয়েছেন। নাহলে ৩৪ বছর ক্ষমতায় থাকা যায় ? মানুষ এতবার ভোট দিয়েছেন এবার দিলেন না কেন ? কোন ভুল ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করতে হবে এবং স্বীকার করতে হবে। না হলে অন্যায় হবে। ৪৫ শতাংশ মানুষ বিজেপি ও তার সহযোগী দলকে ভোট দিয়েছেন। সিপিএম ধারে কাছেও যেতে পারেননি। এর পরেই তিনি বলেন, “বায়না নেবেন না। কেউ যদি বলে বুকিং করেছি, তাদের বলে দিন সিপিএমকে ফিরিয়ে আনবো। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সিপিএমের আমলে ছিল না”।

গৌতম দেব আরো জানান, একটা দেশের গণতন্ত্র সুরক্ষিত আছে কিনা, তা জানা যায় সংখ্যালঘুরা কেমন আছেন, সেই চিত্রটা দেখে। সংখ্যাগুরুরা সমাজের সব স্তরে রয়েছে। পাশে থাকতে হবে সংখ্যালঘুদের। বাম আমলে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি টেনে আনেন ইন্দিরা গান্ধী নিহত হওয়ার ঘটনাকে। নিরাপত্তার জন্য জ্যোতি বসুর ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দেন যে তিনি শিখদের নিরাপত্তা‌র জন‍্য কি পদক্ষেপ নিয়ে ছিলেন? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, গৌতম দেবের এই কথায় শুধুমাত্র বিজেপি‌ই না, কংগ্রেসের সময় থেকেও যে বাম আমলে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বেশি ছিল তা তিনি প্রমাণ করেছেন।

আর কয়েক মাস পরেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বামেরা। এবারে দল ভোটের ময়দানে নামতে চলেছে ছাত্র-যুব কমবয়সীদের সামনে রেখেই। তিনি জানান, এবারে ভোট প্রক্রিয়ায় শক্তিশালী বুথ কমিটি গঠন করা এবং উজ্জ্বল ভাবমূর্তি সম্পন্ন মানুষজনকে দলের অন্তর্ভুক্ত করার মতো পদক্ষেপ নিচ্ছেন তারা। বুথ কমিটির সঙ্গে অঞ্চল কমিটিকে যুক্ত করা এবং সমস্ত এলাকাকে লালপতাকায় মুড়ে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেয়া হবে বামেদের তরফে, একথা জানান প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম দেব (Ex CPIM Minister Goutam Deb)।