যেভাবে নবীন চন্দ্র দাস রসগোল্লার আবিষ্কারক হলেন ?

নবীন চন্দ্র দাশ কে ‘রসগোল্লার কলম্বাস’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। আজ উনিশে জুলাই তার শুভ জন্মদিন। শুভ জন্মদিন হে মিষ্টান্ন সম্রাট। (How Nabin Chandra Das becomes the inventor of Rosogolla)

দেখুন রসগোল্লা সিনেমার ট্রেলার।

জন্ম

নবীন চন্দ্র দাসের জন্ম হয়েছিল 1845 সালে বাগবাজার কলকাতা ব্রিটিশ ভারতে। তার পিতামহের নাম ছিল ভোলা ময়রা। তার অন্যান্য নতুন মিষ্টির গুলির মধ্যে রয়েছে আবার খাবো, দেদো সন্দেশ এবং বৈকন্ঠ ভোগ, সুপরিচিত কস্তুরী, পাতা সন্দেশ এবং কাঁঠাল সন্দেশ।

কর্মজীবন

নবীনচন্দ্রের পূর্বসূরিরা চিনি প্রক্রিয়াজাত এবং এর ব্যবসা করে জীবন যাপন করতেন।এমনকি উনিশ শতকের শেষ ভাগে তাদের ব্যবসায়ীক সমাজে যথেষ্ট খাতির ছিল। কিন্তু নবীন চন্দ্র জন্মগ্রহণ করার ঠিক এক বছর পরে 1845 সালে তাদের ব্যবসা বন্ধের মুখে চলে যায়।সুতরাং দারিদ্র্যের কারণে সামান্য পড়াশোনা শেষ করেন।

তিনি এরপর ইন্দ্র পরিবার যারা নদীয়া জেলার শান্তিপুর এর বিখ্যাত মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারী ছিল তাদের হয়ে কাজ করতে শুরু করেন। তারা ছিল নবীনচন্দ্রের মায়ের দুঃসম্পর্কের আত্মীয়। আর তাদের দোকানটি কলকাতার বাগবাজার চিতপুর রোডে অবস্থিত ছিল। কিন্তু ইন্দ্ররা নবীনচন্দ্র কে অপমান জনক কথা বলছিল। তাই তিনি নিজেই কাজ ছেড়ে দিয়ে নতুন কিছু করার চেষ্টা করেন।

পরে এক জোড়াসাঁকোতে ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সাহায্যে একটি মিষ্টির দোকান খোলেন। আর এই সিদ্ধান্তের কারণে ইন্দ্র তাকে অবজ্ঞা করতো কিন্তু কেউ কখনো চিন্তাও করতে পারেনি যে এই অবজ্ঞার ভূষণ তাকে পুরস্কার এ রূপান্তরিত করবে পরবর্তীকালে।

কিন্তু নবীনচন্দ্রের এই বন্ধুর সাথে করা ব্যবসা প্রচুর লস এর সম্মুখীন হয়। তাই নিজেই নতুন ধরনের মিষ্টি তৈরি করতে উদ্যোগী হলেন। অবশেষে 1848 সালে দীর্ঘ সাধনার পর তিনি রসগোল্লা আবিষ্কার করতে সক্ষম হন। আর এই মিষ্টি প্রকৃতপক্ষে ম্যাগনাম ওপাস বা এটি যেরকম স্বাদে অতুলনীয় ছিল সেরকম তার দাম এমনই ছিল যে সব সমাজের সব ধরনের মানুষ তা খেতে পারত। (Kivabe Nabin Chandra Das Rosogolla abiskar koren)

তৎকালীন সময়ে মিডিয়া এবং বিজ্ঞাপনের এখনকার সময়ের মতো দৌরাত্ম্য না থাকায় জনপ্রিয় হতে কিছুটা টাইম নিয়েছিল ঠিকই। কিন্তু আমরা সবাই ঠিকই জেনে গেছি কে এই মহান ব্যক্তি।

বিয়ে ও তার উত্তরসূরী

তার দাম্পত্য জীবনের সঙ্গী হলেন ক্ষীরোদ মনি দেবী। আর তাদের একমাত্র সন্তানের নাম কৃষ্ণ চন্দ্র দাস যিনি কে সি দাস নামে পরিচিত। (K C Das- Krishna Chandra Das- the son of Nabin Chandra Das)

মৃত্যু

নবীন চন্দ্র দাস 1925 সালে 80 বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন কিন্তু তার এই সৃষ্টির কথা কেউ কোনদিন ভুলতে পারবে না। আর রসগোল্লার খ্যাতি তো এখন বিশ্বজুড়ে।

সাহিত্য ও মিডিয়াতে

2018 সালে ডিরেকটর পাভেল ‘রসগোল্লা’ নামে একটি সিনেমা তৈরি করেন এই নবীন চন্দ্র দাসের জীবন নিয়ে।

হাই বন্ধুরা, প্রতিদিনের গুরুত্বপূ্র্ণ খবর পাওয়ার জন্য bangla.365reporter বুকমার্ক করে রাখুন। আর ফেইসবুক, টুইটার এবং পিন্টারেস্টে আমাদের সঙ্গে কানেক্ট করতে পারেন। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.