Sita Mata Agni Pariksha : রাম সীতাকে কেন অগ্নিপরীক্ষা দিতে বলেছিলেন? জানুন আসল কারণ

আমাদের ভারতবর্ষে প্রাচীন মহাকাব্য রয়েছে। আর এই প্রাচীন মহাকাব্য গুলোর মধ্যে রামায়ণ এবং মহাভারত এক বিশেষ স্থান দখল করে রয়েছে। এই দুয়ের মধ্যে রামায়ণে রয়েছে সাতটি কান্ড যা 500 টি অধ্যায়ে ভাগ করা হয়েছে। আর পুরো কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে 24,000 শ্লোকের মধ্য দিয়ে। আর এই কাব্যের প্রকৃত বিষয়টি হলো ভগবান বিষ্ণুর অবতার প্রভু রাম এবং সীতা মাতার গোটা জীবনের ধারাপাত। (365 Reporter Bangla Hindu Mythology facts : Why Lord Rama tells Sita Mata to give agni pariksha – sita ke keno agni parikkha dite hoechilo ?)

আর রামায়ণ মূলত একজন আদর্শ রাজা, আদর্শ পুত্র, আদর্শ কন্যা, আদর্শ ভাই প্রভৃতি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। আর এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যে যে সম্পর্ক গুলি বেশি গুরুত্বপূর্ণ তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সীতা। তাছাড়া সীতা ছিলেন দশরথের একজন আদর্শ কন্যা এবং রামের আদর্শ স্ত্রী তথা একজন আদর্শ মেয়ে। আর সীতা মাতার চরিত্রটি আরো প্রভাবশালী হয়ে ওঠে, যে পরিস্থিতিতে তিনি তার সতীত্বের প্রমাণ জনসাধারণের সম্মুখে পেশ করার জন্য আগুনে প্রবেশ করেছিলেন। আর এই বিখ্যাত পর্বটির নাম অগ্নিপরীক্ষা (Sita Agni Pariksha Facts)।

তবে প্রচুর মানুষের মনে সব সময়ই একটা প্রশ্ন ভীড় করে আসে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ধার্মিক মহিলা হলেন সীতা। তা সত্ত্বেও প্রভু শ্রী রাম কি কারনে সীতাকে অগ্নিপরীক্ষা দিতে বাধ্য করেছিলেন? কেন সীতা কে অগ্নি পরীক্ষা দিতে হয়েছিলো ? তার এই অগ্নিপরীক্ষা ব্যাপারটি নিয়ে জনগণের মাঝে প্রশ্নের কোন দিন শেষ হয় না। তো চলুন পুরো ব্যাপারটি সম্পর্কে পরিষ্কার হওয়া যাক।

আপনারা প্রত্যেকেই জানেন যে দেবী সীতা ছিলেন প্রকৃতপক্ষে দেবী লক্ষ্মীর অবতার। একথা অনেকেই বিশ্বাস করেন যে যেহেতু তিনি দেবী লক্ষ্মীর অবতার সেহেতু পুরো ব্যাপারটা তার কাছে আগে থেকেই জ্ঞাত ছিল। তিনি পূর্বেই বুঝে গিয়েছিলেন যে এই অপহরণের ঘটতে চলেছে। তিনি আরো বুঝে গিয়েছিলেন যে যে মুহুর্তে তার অপহরণ কার্যটি ঘটবে সেই মুহূর্তে তার স্বামী কিংবা দেবর দুজনেই তাকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হবেন।

এই সমস্ত পরিস্থিতি বিচার করে তিনি অগ্নিদেবের কাছে গিয়েছিলেন। তার পর অগ্নিদেবের সাহায্য প্রার্থনা করেন। তিনি অগ্নিদেব কে বলেন, অগ্নিদেব যেন তার শিখার ভেতর সীতাকে একটু জায়গা করে দেন। সীতাকে এজন্য কঠিন তপস্যা করতে হয়েছিল। আর তপস্যাতে অগ্নিদেব তুষ্ট হন।

এরপর অগ্নিদেব সীতাকে তার শিখার মধ্যে লুকিয়ে ফেলেছিলেন। আর মায়া বলে একটি মায়া সীতা তৈরি করে রেখে দিয়েছিলেন।আর পরবর্তীকালে এই মায়া সীতাকেই রাবণ প্রকৃত সীতা ভেবে বলপূর্বক হরণ করে নিয়ে গিয়েছিলেন লঙ্কায়। এরপর তাকে লঙ্কা নগরীর অশোক ভাটিকা নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে সেখানে যিনি ছিলেন তিনি প্রকৃত সীতা নন। তিনি আসলে অগ্নিদেবের তৈরি মায়া সীতা।

আর এই মায়া সীতাকেই না জেনে বুঝেই লংকা রাজ রাবণ জোরপূর্বক হরণ করেছিলেন। প্রভু শ্রী রাম এবং দেবী সীতা এই গোপন ব্যাপারটি সম্পর্কে অবগত ছিলেন। কিন্তু উভয় জনসাধারণের কাছে একটি ধর্মশিক্ষার দৃষ্টান্ত রাখতে চেয়েছিলাম।তাই তারা লঙ্কেশ্বর রাবণ এর বিপক্ষে যুদ্ধযাত্রা করেন। এরপর দীর্ঘ দিন ব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর মায়া সীতাকে তিনি উদ্ধার করতে সমর্থ হন।

অবশেষে যুদ্ধ শেষে রাম এবং মায়া সীতা আবার একত্র হন। পরবর্তীকালে প্রজাদের হৃদয়ে সীতার সতীত্ব সম্বন্ধে প্রশ্ন জাগতে শুরু করে। আর রাম যেহেতু প্রকৃত জনদরদি ছিলেন তাই তিনি সীতাকে অগ্নিপরীক্ষা দেওয়ার কথা বলেন। প্রভু রাম খুব ভালো করেই জানতেন যে আগুনের দ্বারা মায়া সীতার কোনরূপ ক্ষতি সাধন হবে না। তাছাড়া পরবর্তীকালে অগ্নিদেব মায়া সীতাকে নিজে ফেরত নিয়ে নেন। আর আসল সীতাকে রামের হাতে তুলে দেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *