সারাদিন ক্লান্তি পিছু ছাড়ছে না? দূর করার পথ জেনে নিন

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে একা হাতেই সংসারের সব কাজ সামলাতে এবং তার সাথেই অফিসের ওয়ার্ক ফ্রম হোম করতে গিয়ে ক্লান্তি নিত্য সঙ্গী হয়ে উঠেছে (Exhaustion Attacks In All Of Our Daily Lives Nowadays)। তার সঙ্গে জুটেছে অবসাদ। বিষয়টি অবহেলা করার নয়। শহুরে জীবনে ইঁদুর দৌড় সর্বক্ষণের সাথী। বাড়ির বাইরে এবং বাড়িতে নানা কাজ একাই সামলাতে হয় এর ফলে একরাশ ক্লান্তি স্বাভাবিক ব্যাপার।

বর্তমানে শারীরিক ক্লান্তি ও মানসিক উদ্বেগ নিত্য সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারাদিন ঘুম ঘুম ভাব এবং অবসন্ন শরীর কাজের ক্ষতি করে। আপনার অজান্তেই শরীরে থাবা বসাচ্ছে এই ক্লান্তি। জেনে নেওয়া যাক সারাদিন কি কি কারণে শরীরে ক্লান্তি থেকে যায় এবং এর সমাধান কি করে পাবেন (Health Tips: Why We Are Tired During The Whole Day? How To Get Rid Off It) ?

★ পর্যাপ্ত জল না খাওয়া (Not Drinking Enough Water):

মাঝে মাঝে জল কম খেলে ক্লান্তি থাকতে পারে। এর সাথেই ডিজ়িনেস থাকতে পারে। শরীরের টক্সিন দূর করার জন্য প্রতিদিন অন্তত তিন লিটার জল খাওয়া প্রয়োজন। অনেকেই জলের পরিবর্তে তরল পানীয় যেমন: ফলের রস, চা-কফি খেয়ে থাকেন। কিন্তু এতে জলের প্রয়োজনীয়তা কমে না। তাই নির্দিষ্ট পরিমান জল খাওয়া শরীরের পক্ষে প্রয়োজন। তাই জল না খেলে শরীরে ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

★ সুষম আহার গ্রহণ (Take Balanced Diet):

ক্লান্তির একটা বড় কারণ সঠিক সময়ে খাবার না খাওয়া। আমাদের অনেকেরই খাওয়া-দাওয়ার দিকে নজর থাকে না। ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ায় ব্রেকফাস্ট বাদ যায়। দুপুরের দিকে প্রচন্ড খিদেতে অনেকটা খেয়ে ফেলার প্রবণতা থাকে। এরফলে খাওয়া-দাওয়ার অনিয়ম ও তার জন্যই ক্লান্তি দেখা দেয়। ব্রেকফাস্টে প্রোটিনযুক্ত ও কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। একেবারে বেশি না খেয়ে সারাদিন অল্প অল্প করে খাওয়া প্রয়োজন। তাই সারাদিন পেটভর্তি থাকায় ক্লান্তিভাব লাগবে না।কাজের এনার্জি আসবে। প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার ছাড়াও প্রচুর ফল খাওয়া প্রয়োজন। এছাড়া এনার্জি বাড়াবার জন্য ডিম ও বাদাম ইত্যাদি খাদ্য তালিকায় রাখা প্রয়োজন। অতিরিক্ত ডায়েট নিয়ন্ত্রণ শরীরের ক্লান্তি ডেকে আনতে পারে। ফলে ক্লান্ত লাগলে জাঙ্কফুড খাওয়া চলবে না। ডাবের জল খাওয়া যেতে পারে।

★ ফোন বা ল্যাপটপে সময় কাটানো (Excessive Use Of Mobile Or Laptop):

সারাদিন ফোন বা ল্যাপটপে অতিরিক্ত সময় কাটানো ক্লান্তির অন্যতম কারণ। তাই ক্লান্ত লাগলে ফোনের ব্যবহার কমানো প্রয়োজন। ঘুমের আগে অনেকের প্রবণতা থাকে মোবাইল ঘাঁটার। ঘুমের আগে মোবাইল বা ল্যাপটপে সময় কাটানো খুব ক্ষতিকর। এর ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়। ট্যাবলেট, স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের স্ক্রিনের আলো মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণে বাধা দেয়। ঘুম আসা এবং ঘুম থেকে উঠার প্রক্রিয়া সক্রিয় রাখে এই হরমোন। এই হরমোনের অভাবে ঘুমের গোলযোগ ঘটে। ফলত সারাদিন ঘুম ঘুম ভাব থেকে যায়। তাই ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে অন্তত ১৪ ইঞ্চি দূরে রেখে ব্যবহার করা উচিত।

★ মানসিক চাপ বৃদ্ধি (Increase In Mental Pressure):

দুশ্চিন্তা, হতাশা শরীরের ক্লান্তির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। হতাশা, ক্লান্তি মনের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করে। চিন্তিত বা অবসাদগ্রস্ত থাকলে এনার্জি লেভেল দ্রুত ঘাটতি হয়। তাই মেডিটেশন, পছন্দের গান শোনা, গল্পের বই পড়া, সিনেমা দেখা ইত্যাদি করা প্রয়োজন।

★ শরীরচর্চা‌র অভ‍্যাস (Perform Daily Exercise):

ক্লান্তি দূর করার অন্যতম পথ হল শরীরচর্চা। ব‍্যায়াম করলে শরীর ভালো থাকে। শরীরের টক্সিন বেরিয়ে যায়। তার ফলে মস্তিষ্ক সচল থাকে। উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে। সেক্ষেত্রে শরীরের ক্লান্তি কমানোর জন্য এবং সঠিক সময়ে ঘুমের জন্য সকালবেলা মর্নিংওয়াক বা সন্ধ্যেবেলায় ইভিনিংওয়াক, বা যেকোনো ধরনের শারীরিক ব্যায়াম খুবই প্রয়োজনীয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে ব্যায়াম করতে গিয়ে শরীরে অতিরিক্ত চাপের প্রভাবে আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা যাতে না হয়। ঘুমাতে যাওয়ার আগে কখনোই ব্যায়াম করা উচিত নয়। কারণ এতে শরীরের পেশীগুলি সচল হয়ে ওঠে। এতে ঘুম আসতে দেরি হয়। তাই ব্যায়ামের সঠিক সময় বেছে নেওয়া প্রয়োজন।

★ এসি তে থাকার অভ্যাস (Sit Under AC For A Long Time):

একটানা এসিতে বসে কাজ করলে শরীরের ক্লান্তি আসতে পারে। মাথাব্যথার মতো সমস্যা দেখা যায়। তাই মাঝে মাঝে এসি থেকে বেরিয়ে বাইরে খোলা আকাশের নিচে বা খোলা জায়গায় হাঁটাচলা করতে পারেন। বাড়িতে থাকলে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত থাকা প্রয়োজন।

এছাড়া অ্যানিমিয়া, স্লিপ অ্যাপনিয়া, থাইরয়েডের সমস্যার উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা প্রয়োজন। উপরোক্ত বিষয়গুলো মেনে চললে ক্লান্তি দূর করা সম্ভব এবং সুস্থ জীবন ফিরে পাওয়া সম্ভব (To Get A Healthy Life, You Can Follow The Above Health Tips)। সারাদিনের কাজ সঠিক‌ভাবে করার জন‍্য সঠিক নিয়ম মেনে চলা খুব‌ই প্রয়োজন তাই আজ থেকেই শুরু করুন নিয়মমাফিক জীবনযাপন (Maintain Disciplined Life)।