পাকিস্তানিরাও বিরোধ করলো চীনের, গাইলো ‘বন্দেমাতরম’

ভারতের রাষ্ট্রীয় সংগীত পাকিস্তানের জনগণ গেয়ে চলেছে। এটি একটি অবিশ্বাস্য ব্যাপার কিন্তু ইংল্যান্ডে রবিবার ঠিক এই ব্যাপারটি সংঘটিত হলো। চায়না দূতাবাসের বাইরে একটি বিক্ষোভ কতিপয় পাকিস্তানের- Pakistani জনগণ ভারতীয় জনগণের সাথে সাথ দিয়ে চীনের বিরোধিতা করলো। আর ভারতীয় -Indian জনগণের সাথে গলা মিলিয়ে ভারতের রাষ্ট্রীয় গান বন্দেমাতরম- Vande Mataram-ও গেয়ে ফেললো।

চলুন আমরাও পুনরায় শুনে ফেলি বন্দে মাতরম গানটি।

এই বিক্ষোভের কারণ হিসেবে জানা গেল চীনের সাম্রাজ্যবাদী নীতির গ্রহণ। চীনের এই সাম্রাজ্যবাদী পদক্ষেপের বিপক্ষে গিয়ে বিদেশে থাকা ভারতীয়রা এই বিক্ষোভ সংগঠিত করেছিল। পরবর্তীকালে এই বিক্ষোভে শরিক হন পাকিস্তানের মানবাধিকার কর্মকর্তা আরিফ আজকিয়া। তিনি অতীতের মতো বর্তমানেও পাকিস্তানের প্রকৃত অবস্থা আর সত্যতা লোকজনের সামনে তুলে ধরতে বিশ্বাস করেন। একই সঙ্গে তিনি ভারতীয়দের সাথে গলা মিলিয়ে চীন মুর্দাবাদ স্লোগানও করলেন।

আজকিয়া নিজে থেকেই বললেন, “আমার জীবনে এই প্রথমবারের জন্য বন্দেমাতারাম গান করলাম।” একই সঙ্গে আমজাদ আইয়ুব মির্জা উনার সঙ্গে সঙ্গ দিয়েছিলেন। আইউব প্রকৃতপক্ষে একজন কাশ্মীরের নাগরিক। তিনিও সর্বদাই পাকিস্তান সরকার পাক অধিকৃত কাশ্মীরে লোকজনের ওপর প্রতিনিয়ত যে অন্যায় অবিচার করে চলেছে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন।

তাছাড়া করাচি থেকে আগত কয়েকজন লোক এবং ইরানের জনগণ ছিলেন। এই বিক্ষোভে তারাও সামিল হন। তারা প্রত্যেকেই জানিয়েছেন, চীন তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপারে প্রচুর নাক গলাচ্ছে। আর এতে তারা মোটেই খুশি নন।

মির্জা ব্যক্ত করলেন, “এই বিক্ষোভের শরিক হওয়ার জন্য আমি গ্লাসগও থেকে এখানে ভ্রমণ করে এসেছি। আমি পাকিস্তান সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা কাশ্মীরের নাগরিক। মূলত আমি একজন ভারতীয় নাগরিক যাকে পাকিস্তান সরকার দখল করে রেখেছে। চীন সিপিইসির দোহাই দিয়ে গিলগিট বাল্তিস্তানে ভুলভাল কার্য করছে। আর পাকিস্তানের সরকারও তাদের কথায় সায় দিয়ে যাচ্ছে।”

ভারতের জনগণ চীনের কমান্ডার জিং পিং- Xing Ping-এর বিপক্ষে পোস্টার এবং প্ল্যাকার্ড ধরে একজোট হয়েছিল। বিদেশে থাকা ভারতের জনগণ এরকম বিক্ষোভ আমেরিকা, কানাডা এবং পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও সংগঠিত করেছে। তাছাড়া চীনের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে বেড়ে চলা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ইংল্যান্ডের মাটিতে দেখা যায়।

তাছাড়া শনিবারে রাত্রিবেলায় চীন দূতাবাসের বিল্ডিংয়ে ফ্রী তিব্বত, ফ্রী হংকং এবং ফ্রী উইঘর লেখা একটা পোস্টারও দেখতে পাওয়া যায়।চীনের সরকার শিনজিয়াং এলাকাতে উইঘর মুসলমানদের বিপক্ষে গিয়ে মানবাধিকারের বিরুদ্ধবাদী আচরণ করেছে। ফলে আমেরিকার সরকার চীন সরকার এবং তাদের রিপ্রেজেন্টেটিভ এর বিপক্ষে অত্যাচার অবিচার এর তীব্র সমালোচনা করেছে।

ইতিমধ্যে ভারতের জনগণ চীনদেশীয় দ্রব্যাদি বিপুল হারে বর্জন করতে আরম্ভ করেছে। একই সঙ্গে জাপান এবং অস্ট্রেলিয়া সহ পৃথিবীর অনেকগুলো দেশে চীনের বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করেছে। আর এসব দেখে একটা কথাই প্রমাণ হয় যে এবার থেকে কেউই চীনের আগ্রাসী নীতিকে সমর্থন করবে না।