খাবার তো খাচ্ছেন, সময়মতো খাচ্ছেন কি ? জেনে নিন খাওয়ার সঠিক “সময়”

শরীর সুস্থ থাকার জন্য খাদ্য গ্রহণ যেমন জরুরি। সেরকমই সময়ে খাবার খাওয়াটাও অত্যন্ত জরুরী। চিকিৎসকদের পরামর্শে, অতিরিক্ত ওজনের প্রধান কারণ হলো অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়া। অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়া শরীরের মেটাবলিজম সিস্টেমকে ব্যাহত করে। এর ফলে হজমে সমস্যা এবং ওজন বেড়ে যায়।

আমরা অনেকেই কাজের চাপে অথবা অবহেলায় ব্রেকফাস্ট এড়িয়ে যাই। তাড়াহুড়োয় অনেকেই ব্রেকফাস্ট না খেয়ে বেরিয়ে পড়েন। অফিসে কাজের চাপে লাঞ্চেও অনেকটাই দেরি হয়ে যায়। এটাই ধীরে ধীরে অভ্যেসে পরিণত হতে থাকে। এরফলে আমাদের শরীরে যেমন ওজন বাড়ে। তেমনি বাসা বাঁধে বিভিন্ন রোগ (Health Tips : If You Don’t Take Your Breakfast, Lunch, Dinner TImely, Disease May Attack You)।

চিকিৎসকদের মতে, একবারে বেশি করে খাওয়ার চেয়ে, বারে বারে অল্প অল্প করে খাওয়া প্রয়োজন। খাবার এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ ও ডিনার ভীষন জরুরী। সকালে ব্রেকফাস্ট ন’টার মধ্যে সেরে ফেলা প্রয়োজন (Breakfast Time: Upto 9:00 am)। লাঞ্চ তিনটের মধ্যে সেরে ফেলার চেষ্টা করুন (Lunch Time : Upto 3:00 pm)।

চিকিৎসকদের মতে একটার সময় দুপুরের খাবার খাওয়া সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর। রাতের খাবার রাত্রি আটটার মধ্যেই শেষ করা ভালো (Dinner Time : Upto 8:00 pm)। এতে রক্তে কার্বোহাইড্রেটের ভারসাম্য ঠিক থাকে। সারাদিন যে ক‍্যালোরি প্রয়োজন হয় তার ১৫% ব্রেকফাস্ট-এ, ৫০% লাঞ্চে, ১৫% সান্ধ্যকালীন এবং ২০% ডিনারে খাওয়া উচিত। এই সময়ের খাবারগুলিতেই সঠিক পরিমাণ পুষ্টিযুক্ত খাবার খাওয়া প্রয়োজন।

সময়ের খাবার সময়ে খেলে সুস্থতা বজায় রাখা সম্ভব। দুপুরের খাবার দেরিতে খাওয়া বিপজ্জনক। আমেরিকার একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, দুপুর তিনটের পর দুপুরের খাবার গ্রহণ করা খুবই ক্ষতিকারক। বেশিক্ষণ না খেয়ে থাকা বিপজ্জনক (Keeping Your Stomach Empty For A Long Time Is Dangerous)। তাতে শরীরের ফ্যাটকে বার্ন করে পেরিলিপিন প্রোটিন। দুপুর তিনটের সময় লাঞ্চ করলে একসঙ্গে অনেক খেয়ে ফেলার প্রবণতা যেমন বারে, তেমন‌ই পেরিলিপিন প্রোটিনের কার্যক্ষমতা কমে যায়। এই কারণেই সময়ের খাবার সময়ে খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। তার ফলে শরীরে পুষ্টি বজায় থাকে এবং সমস্ত খাদ্যগুণ শরীরে শোষিত হয়। এরফলে সুস্থ শরীর বজায় রাখা সম্ভব।