অতিরিক্ত ব্যবহারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে হলুদের‌ও, জেনে নিন এক ঝলকে

বহুকাল ধরেই আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে হলুদকে অপরিহার্য হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। হলুদের গুণাবলীর জন্য চিকিৎসা মহলে কদর রয়েছে হলুদের। বর্তমানে বহু চিকিৎসার ঔষধ হিসেবে হলুদকে ব্যবহার করা হয়। হলুদের উপকারিতা সম্পর্কে আমরা সকলেই অল্পবিস্তর কি জানি। রূপচর্চা কিংবা কোন ক্ষতের উপশম বা পেটের গোলযোগ হলুদের উপকারিতা অপরিসীম। লিভার ভালো রাখতে কাঁচা হলুদ খাওয়ার নিদান দেন অনেকেই।

বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে শরীরের ইমিউনিটি বাড়ানোর জন্য দুধ হলুদ এবং রান্নায় হলুদ ব্যবহার করার মত বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক থেকেও। কোন জিনিসের যেরকম ভালো দিক রয়েছে, সেরকমই তার অতিরিক্ত ব্যবহার ক্ষতিকারক হতে পারে। সে রকম অতিরিক্ত হলুদ ব্যবহারে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে যা শরীরে সৃষ্টি করতে পারে ক্ষতিকর জটিলতা।

★ হলুদের মধ্যে থাকা ক্যালসিয়াম অক্সালেট খাবার হজমে বাধা দেয়।

★ এই ক‍্যালসিয়াম অক্সালেট নিজে হজম না হয়ে, বহুদিন ধরে শরীরে জমতে থাকলে পরবর্তীকালে কিডনিতে পাথর সৃষ্টি করে।

★ বহুদিন ধরে অতিরিক্ত হলুদ খেলে ডায়রিয়া, হজমের গন্ডগোল, গা বমি বমি ভাব এছাড়া নানারকম পেটের সমস্যা হতে পারে।

আরোও পড়ুন, অলরাউন্ডার হলুদের উপকারিতা।

★ সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গিয়েছে, হলুদ অ্যালার্জি সৃষ্টি করে। এর ফলে ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দেয় এবং শারীরবৃত্তীয় সমস্যাও হতে পারে।

★ হলুদ রক্ত তরল রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে হলুদের অতিরিক্ত ব্যবহারে রক্ত তরল হয়ে যাওয়ায় রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয়। তাই যাদের রক্ত তঞ্চন-এর সমস্যা রয়েছে। তাদের হলুদ কম ব্যবহার করাই উচিত।

★ অতিরিক্ত হলুদ খেলে কেমোথেরাপির প্রভাব নষ্ট হয়। তাই যাদের কেমোথেরাপি চলছে তাদের হলুদ এড়িয়ে চলাই ভালো।

★ গবেষণায় জানা গিয়েছে, অতিরিক্ত পরিমাণ হলুদ সেবনে বিভিন্ন ওষুধ শরীরে কাজ করতে বাধা পায়। হলুদে থাকা কারকিউমিন অ্যাসপিরিন, ওয়ারফারিন এবং কিছু স্টেরয়েডের শরীরের কাজ করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই সে ক্ষেত্রে যারা এ ধরনের ওষুধ ব্যবহার করছেন তাদের হলুদ ব্যবহার না করাই ভালো।

★ যেসব ব্যক্তিরা গলব্লাডার স্টোন অথবা গলব্লাডার জনিত কোন সমস্যায় ভুগছেন তারা হলুদ ব্যবহার করবেন না। কারণ গলব্লাডারের বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে হলুদের অতিরিক্ত সেবন।

★ ডায়াবেটিসের সমস্যায় অতিরিক্ত হলুদ সেবন উচিত নয়‌। হলুদে থাকা কারকিউমিন নামক রাসায়নিক ব্লাড সুগার কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু কখনো কখনো অতিরিক্ত সেবনের ব্লাড সুগার লেভেল একেবারে কমে যায়। যা ডায়াবেটিস রোগীর পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

★ যারা পাকস্থলী সংক্রান্ত কোন সমস্যায় ভুগছেন, তাদের হলুদ সেবন করা উচিত নয়। মানুষের শরীরে আয়রন একটি গুরুত্বপূর্ণ মিনারেলস। হলুদের অতিরিক্ত ব্যবহারে মানব শরীরে আয়রনের ঘাটতি ঘটতে পারে।

★ যেকোনো অস্ত্রোপচারের প্রায় দু সপ্তাহ আগে হলুদ সেবন বন্ধ করা উচিত। কারণ হলুদ রক্তকে তরল রাখতে সাহায্য করে। সেক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের পর রক্তক্ষরণের মাত্রা বেড়ে গেলে রোগী বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। এমনকি প্রাণহানির আশঙ্কা‌ও থেকে যায়।

করোনা আবহের পরে হলুদ দুধ বা রান্নায় হলুদ ব্যবহারের মতো নিদান দেওয়া হয়েছিল। তবে অতিরিক্ত হলুদের ব‍্যবহারে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলি হয় এগুলো জেনে রাখা প্রয়োজন। নির্দিষ্ট পরিমাণে হলুদ সেবন ও নিয়মাবলী মেনে ব্যবহার করলে সুফল মিলবে।