অলরাউন্ডার হলুদ- একঝলকে জেনে নিন হলুদের উপকারিতা

রান্নাঘরের একটি অপরিহার্য উপাদান হলুদ। হলুদের গুনাগুন সম্পর্কে আমরা প্রত্যেকেই অল্পবিস্তর জানি। রান্নাঘরে হোক কিংবা ত্বকের পরিচর্যায়, হলুদ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে হলুদ ব্যবহার করা হয়। যেমন- সরস্বতী পুজোর আগে হলুদ মেখে স্নান করার রীতি রয়েছে। তেমনই বিবাহের সময় গায়ে হলুদ (Haldi in Marriage Ceremony) হিসেবে একটি অনুষ্ঠান পালন করা হয়।

বর্তমানে বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রীতেও হলুদ ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন ফেসওয়াশ কিংবা মশ্চারাইজার ক্রিমে হলুদের ব্যবহার দেখানো হয় প্রসাধনীর বিজ্ঞাপনে। রান্নার ক্ষেত্রে হলুদ ছাড়া রান্না কেউই খুব একটা পছন্দ করে না। শুধুমাত্র রান্নার রং নয় রান্না করা খাবারের গুণমান বজায় রাখতেও হলুদ ব্যবহার করা হয়।

হলুদে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ভাইরাস এবং অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে। তাছাড়াও রয়েছে অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান সমূহ যা শরীরকে ভেতর থেকে রোগমুক্ত করে। অনেকেই নিদান দেন সকাল বেলা খালি পেটে কাঁচা হলুদ খাওয়ার। এখন বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে হলুদ দুধ খাওয়া কিংবা রান্নায় হলুদ ব্যবহার বাড়িয়ে দিয়েছেন অনেকেই। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফেও বলা হয়েছে হলুদ ইমিউনিটি বাড়াতে সাহায্য করে। হলুদ এর গুনাবলী সম্পর্কে (Benefits Of Using Turmeric) জেনে নিন এবং তার সঠিক ব্যবহার করুন।

হলুদকে ভারতীয় জাফরান (Indian Jafran) বা সোনার মশলা ( Holud is Sonar Mashala ) বলা হয়। এই হলুদকে নিয়ে প্রচুর গবেষণা করা হয়েছে। হলুদের মধ্যে কারকিউমিন নামক উপাদান শরীরের সুস্থতা বজায় (Health Tips using Turmeric) রাখতে সাহায্য করে। হলুদের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি সিক্স, ফাইবার, কপার, পটাশিয়াম প্রভৃতি।

হলুদ মূলত রান্নায় ব্যবহার করা হয়ে থাকলেও ত্বকের পরিচর্যার ক্ষেত্রে প্রাচীন যুগ থেকে ব্যবহার করা হয়ে আসছে। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে হলুদের কদর চোখে পড়ার মতো। হলুদের মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, লিভারের সমস্যার সমাধান করে। তাছাড়াও হৃদরোগের সমস্যা দূর করে, ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। আর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। সর্দি কাশি নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে হলুদ। এবার বিস্তারিতভাবে জেনে নিন হলুদের উপকারিতা (Holuder Upokarita।

লিভারের সুরক্ষায় হলুদ ( Turmeric To Protect Liver):

লিভার শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। লিভারের সুরক্ষার ক্ষেত্রে ভেষজ উপাদান হলো হলুদ (Liver Er Surakshay Holud)। হলুদ এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হলুদের মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভার সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। লিভারে যেকোন রকমের ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে লিভারকে সুরক্ষা দেয় হলুদ। হলুদের মধ্যে থাকা কারকিউমিন ফ্যাটি লিভারের মতো সমস্যায় যারা ভুগছেন সে ক্ষেত্রে সহায়তা করে। লিভারের মধ্যে জমে থাকা বর্জ্য পদার্থ বের করে লিভারকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।

★ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে হলুদ (Turmeric To Control DIabetics):

হলুদ রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। যারা দৈনন্দিন কাঁচা হলুদ খান তাদের রক্তে বেশ কিছু উপাদান সৃষ্টি হয় যা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সহায়তা করে। হলুদ ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় যা রক্তে শর্করার পরিমাণ ঠিক রাখতে সাহায্য করে। হলুদের খাওয়ার ফলে অগ্নাশয় ঠিক থাকে।

আরোও পড়ুন, অতিরিক্ত হলুদ ব্যবহারের বিপদ…

★ ইমিউনিটি বাড়াতে হলুদ( Turmeric To Boost Immunity):

হলুদের মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকায় শরীরকে রোগ জীবাণু থেকে রক্ষা করার ক্ষমতা রাখে হলুদ। শরীরের যে কোনো রকমের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। খাদ্যনালীকে সুরক্ষিত রাখে হলুদ। তাই খাবার তালিকায় কাঁচা হলুদ অথবা গুড়ো হলুদ রাখলে ক্ষতিকারক জীবাণুর সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। যেকোনো রকম অসুস্থতার পরে দৈনিক এক গ্লাস দুধে ১ চামচ হলুদ মিশিয়ে যদি খাওয়া যায়, তাহলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং দুর্বলতা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

★ ক্যান্সার প্রতিরোধে হলুদ (Turmeric To Prevent Cancer):

কোলন, পেট বা লিভার ক্যান্সারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে হলুদ। হলুদ এর মধ্যে থাকা প্রতিরক্ষামূলক উপাদান গুলি ক্যান্সার থেকে শরীরকে রক্ষা করে। হলুদের মধ্যে থাকা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় যৌগ কারকিউমিন ক‍্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

হজম ক্ষমতা বৃদ্ধিতে হলুদ (Turmeric Can Improve Digestive Power ):

হলুদের মধ্যে থাকা উপাদান লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। পাকস্থলীর সুরক্ষিত রাখে। হজমে সহায়ক পাকরস ক্ষরণে সহায়তা করে। যার ফলে বদহজমের মতো সমস্যা, গ্যাস, অম্বল অ্যাসিডিটির সমস্যা দূর হয়।

★ যেকোনো ব্যথা-বেদনা উপশমে হলুদ (Turmeric To Relieve Any Sort Of Pain):

হলুদের মধ্যে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যেকোনো ব্যথা-বেদনা, যেমন বাতের ব্যথা, হাঁটুর ব্যথা এবং পেটে বিভিন্ন সংক্রমণ জনিত সমস্যা থেকেও হলুদ রক্ষা করে। হঠাৎ গুরুতর চোট পেলে সেখানে হলুদের প্রলেপ লাগালে আরাম পাওয়া যায়। সাইনাসের ব্যথায় কষ্ট পেলে এক গ্লাস দুধে হলুদ মিশিয়ে খেলে সেই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

★ প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক হিসেবে হলুদ (Turmeric Acts As A Natural Antibiotic):

কোথাও হঠাৎ চোট পেলে ক্ষতস্থানে কাঁচা হলুদ বেটে লাগিয়ে দিলে জীবাণু সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। শরীরের কোন স্থানে ইনফেকশনের মত সমস্যা হলে সেখানে হলুদ বাটা এবং গোলাপ জলের মিশ্রণ লাগালে নিরাময় হয়।

★ ত্বকের যত্নে হলুদ (Turmeric In Skin Care):

সুস্থ সুন্দর ও উজ্জ্বল ত্বক পাওয়ার জন্য হলুদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই বর্তমানে বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রীর মধ্যে হলুদ ব্যবহার করা হয়। মুখে ব্রণ, বলিরেখা, পিগমেন্টেশন ও ট‍্যানের মতো সমস‍্যায় হলুদ ওষুধের মতো কাজ করে। নিয়মিত ব‍্যবহারে ত্বকের সমস্যা‌র সমাধান হয়। তবে অ্যালার্জীর সমস‍্যা থাকলে ব‍্যবহার করা উচিত নয়।

উপরিউক্ত বিষয়গুলি হলুদের গুনাবলীর বর্ণনা। যেকোনো জিনিস ব্যবহারে যে রকম তার সুপ্রভাব রয়েছে অতিরিক্ত ব্যবহারে তার ক্ষতিকারক দিক রয়েছে। কোনকিছুই অতিরিক্ত ব্যবহার করা উচিত নয় যে কোনো বস্তুই সঠিক পরিমাণে ব্যবহার করলে সুফল পাওয়া যায় তাই হলুদের সঠিক পরিমাণে ব্যবহার করে সুস্থতা বজায় রাখুন।