ঘরোয়া যত্নে জৌলুস ফিরবে শাড়িঘরে, র‌ইল কিছু টিপস

বর্তমান পরিস্থিতির জেরে যেমন গৃহবন্দি আমরা সেরকমই নারীর সৌখিন শাড়িগুলিও আলমারিবন্দি। তাদের নতুনত্ব এবং জৌলুস বজায় রাখার জন্য বিশেষ যত্নের প্রয়োজন। কিভাবে আগলে রাখবেন আপনার পছন্দের বেশভূষা তারই কিছু টিপস রইল।

বর্তমানে আধুনিকারা যতই কমফোর্টেবেল আধুনিক পোশাক বেছে নেওয়ায় বিশ্বাসী হোক, উৎসব অনুষ্ঠানে নিজেকে সাজাতে আস্থা রাখেন সেই আদিতম পোশাক শাড়ির উপরেই। উৎসবে অনুষ্ঠানে পরার জন্য বিভিন্ন রকমের শাড়ি কেনা হয়। শুধুমাত্র শাড়ি কিনলেই তো হল না, তার বিশেষ যত্ন-আত্তিও প্রয়োজন। যাতে তার জৌলুস বজায় থাকে বছরের পর বছর।

এমনিতেই কালেভদ্রে শাড়ি পরা হয় অনুষ্ঠানগুলিতে। বর্তমানে গৃহবন্দি অবস্থায় শাড়ি পরার মত অনুষ্ঠানগুলি প্রায় নেই বললেই চলে। তাই শাড়িগুলির দেখভালের ও নতুনত্ব বজায় রাখার জন্য চিন্তার ভাঁজ পড়েছে নারীদের কপালে। পূর্বে ঠাকুমা-দিদিমাদের শাড়ির ঘরোয়া যত্ন প্রজন্মের পর প্রজন্ম শাড়িগুলিকে বৃদ্ধ হতে দেয়নি। সেরকমই শাড়ির যৌবন ধরে রাখার কিছু টিপস ব্যবহার করে দেখুন।

শাড়ি পরিচর্যায় ঘরোয়া টোটকা:

★ আলমারির যেখানে শাড়ি থাকে, তাকের কোনে ডালসুদ্ধ নিম পাতা রেখে দিতে পারেন। নিমপাতা গুঁড়ো হয়ে এলে আবার পাতা বদলে দিন।
★ কাপড়ের পুঁটলিতে কালোজিরে রেখে আলমারির এককোণে রেখে দিন।
★ দারুচিনি, এলাচ কাপড়ের পুঁটলিতে বেঁধে শাড়ির তাকের কোনায় রেখে দিলে শাড়িতে পুরনো, ভ‍্যাপসা গন্ধ হয় না।
★ বেশিদিন শাড়ি না পড়লে শাড়ি বিবর্ণ হয়ে যায়। যেকোন শাড়ি পরার পর হালকা রোদে রেখে তারপরে আলমারিতে তুলুন।
★ মাসে একবার শাড়ির ভাঁজ খুলে খোলা জায়গায় রাখুন। পরে ভাঁজ বদলে তুলে রাখুন। একই ভাঁজে বেশি দিন রাখলে শাড়ি ভাঁজে ভাঁজে ফেঁসে যায়।
★ জামদানি বা বেনারসি শাড়ি কখনোই পাট পাট করে অন্য শাড়ী নিচে রাখবেন না। গোল করে পাকিয়ে পাকিয়ে মুড়ে অন্য শাড়ির মধ্যে কোলবালিশের মত রাখতে পারেন।
★ শাড়ি ভাঁজ করে রাখলে তার উপরে ও নিচে ট্রেসিং পেপার দিয়ে ভাঁজ করে রাখুন।
★ বালুচরী, বেনারসি শাড়ি দু বছরে কিংবা সম্ভব হলে প্রতি বছর একবার পালিশ করিয়ে নিতে পারেন।

লিনেন, তাঁত, শিফনের যত্ন:

★ লিনেন, তাঁত, শিফন যেহেতু হালকা শাড়ি এই শাড়িগুলো বাড়িতেই হাতে কাচুন।
★ তাঁতের শাড়ি অনেকদিন ভালো থাকে। ওয়াশিং মেশিনে যদি কাচেন তবে ডেলিকেট মোডে কাচতে পারেন।
★শাড়ি রোদের না দিয়ে ছায়ায় শুকোতে দিন।
★ তাঁত বা টাঙ্গাইল শাড়ি ছোট করে ভাঁজ করে রাখুন। দোকানে যেরকম রাখা হয়।

★ মাঝে মাঝে শাড়ির জায়গা বদল করুন। ওপরের শাড়িগুলো নিচে এবং নিচের শাড়িগুলো ওপরে করে দিন।
★ শাড়িতে মাড় দিলে জল ঝরিয়ে নিন। মুড়বেন না। মুড়লে শাড়ির সুতো দুর্বল হয়ে যায়।

★বর্তমানে হ্যান্ডলুম ফ‍্যাশনের জন্য কটন লিনেন শাড়ির জনপ্রিয়তা বেড়েছে। এগুলির যত্ন সহজ।
★ কটন লিনেন শাড়ি মাড় দিয়ে ইস্ত্রি করে রাখলে ভালো থাকবে।
★ এই শাড়ি ভাঁজ করে রাখবেন না। কাঠের হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখুন।
★ কটন লিনেন শাড়ি প্রথমবার ধোয়ার আগে লবণ জলে ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। রং নষ্ট হবে না।
★ ডিটারজেন্টের সঙ্গে নরম শ্যাম্পু মিশিয়ে শাড়িগুলো কাচতে পারেন। এতে শাড়ির সুতো বহুদিন ভালো থাকবে।

নেট সিল্ক ও জরির যত্ন:

★ নেট সিল্ক বা জরি শাড়ি আলমারিতে ঠেসে বা হ্যাঙ্গারে না ঝুলিয়ে হালকাভাবে রাখার চেষ্টা করুন।
★ মসলিন কাপড় দিয়ে সিল্কের শাড়ি ঢেকে রাখতে পারেন।
★ জরির শাড়ি মলমল দিয়ে ঢেকে রাখার চেষ্টা করুন।
★ তসর, ঘিচা, কাঞ্জিভরম শাড়ির ক্ষেত্রেও একইভাবে যত্ন করুন।
★ সিল্কের ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখবার জন্য ৫ লিটার জলে ৫ চামচ হোয়াইট ডিস্টিলড্ ভিনিগার মিশিয়ে শাড়ি ৫ মিনিট ডুবিয়ে রেখে সাবধানে ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিন। সাবধানে শাড়ি থেকে তোয়ালে চেপে জল শুষে নিয়ে ছায়ায় মেলে শুকিয়ে নিলেই ঔজ্জল্য ফেরত আসবে।

আরো কিছু টিপস:

★ এক‌ই হ্যাঙ্গারে দুটো শাড়ি না রাখাই ভালো।
★ ইস্ত্রি করার সময় শাড়ির উপরে নরম সুতির কাপড় রেখে মাঝারি তাপে ইস্ত্রি করুন। শাড়ির উল্টো দিকে ইস্ত্রি চালান।
★ ফাঙ্গাস থেকে শাড়ি বাঁচাতে সিলিকা জেল পাউচ ব্যবহার করতে পারেন।
★ বাড়িতে ওয়েবমিনার বা জুম কনফারেন্সে শাড়ি পরে বসতে পারেন। এতে শাড়ি ও মন দুই‌ই ভালো থাকবে।
★ শাড়ি রাখার জন্য আলাদা আলাদা টিস্যু ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন।

শাড়ির যত্নে এই ঘরোয়া টিপস ব‍্যবহারে দীর্ঘস্থায়ী হবে আপনার শাড়ির যৌবন। শাড়ির জৌলুস ও ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখতে আজ থেকেই শুরু হোক এই বিশেষ পরিচর্যা।